সোনার দামে বড় চমক! আগামী সপ্তাহে বাজারের গতিপথ ঠিক করবে ৫টি ফ্যাক্টর

টানা চার সপ্তাহ দরপতনের পর ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছে মূল্যবান ধাতু সোনা। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে আগামী সপ্তাহে সোনার দামের গতিপথ মূলত আন্তর্জাতিক অর্থনীতির বেশ কিছু সূচকের ওপর নির্ভর করবে।

আগামী সপ্তাহের ৫টি মূল বিষয় যা বাজারের গতিবিধি নির্ধারণ করবে:

১. মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্য: আগামী সপ্তাহে আমেরিকার পরিষেবা পিএমআই (PMI), বাণিজ্য তথ্য এবং সাপ্তাহিক বেকারত্বের দাবির (Weekly Jobless Claims) দিকে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে। এই তথ্যগুলো মার্কিন অর্থনীতির শক্তি নির্দেশ করবে, যা সোনার দামে সরাসরি প্রভাব ফেলে। ২. ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত: মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’-এর সুদের হার সংক্রান্ত নতুন সংকেত সোনার বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুদের হার পরিবর্তনের সম্ভাবনা সোনার চাহিদায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ৩. মুদ্রাস্ফীতির তথ্য: চীন, জাপান, জার্মানি এবং ইউরো জোনের মুদ্রাস্ফীতির তথ্য আগামী সপ্তাহে প্রকাশিত হবে। বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর মুদ্রাস্ফীতির হার সোনার মূল্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ৪. ডলারের গতিবিধি: ডলারের মানের সঙ্গে সোনার দামের সম্পর্ক বিপরীতমুখী। মার্কিন ডলার যদি দুর্বল হয়, তবে সোনা ও রুপার দাম শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে। ৫. ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অপরিশোধিত তেল: রাশিয়া-ইউক্রেন উত্তজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা মূল্যবান ধাতুর চাহিদাকে প্রভাবিত করে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা থাকায় সোনা ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে বিনিয়োগকারীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বাজারের বর্তমান চিত্র: দেশীয় বাজারে আগস্ট ডেলিভারির সোনার ফিউচার প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১.৪৭ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে, রুপার ফিউচার প্রতি কিলোগ্রামে পৌঁছেছে ২.৩৭ লক্ষ টাকায়। আন্তর্জাতিক বাজারেও (COMEX) সোনা ও রুপা উভয় ধাতুর দর বেড়েছে। এছাড়া, ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমানে তাদের রিজার্ভে সোনার পরিমাণ বাড়াচ্ছে, যা বাজারের আস্থা আরও সুদৃঢ় করেছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ: বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক নিম্নস্তরে সোনার দাম বেশ ভালো সমর্থন পেয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহের অর্থনৈতিক সূচকগুলোর ওপর ভিত্তি করে বাজার কিছুটা অস্থিতিশীল হতে পারে। তাই নতুন করে বিনিয়োগের আগে বিশ্ববাজারের ঘটনাবলী ও অর্থনৈতিক সূচকগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।