সোনারপুরে ডেঙ্গি-আতঙ্ক! মৃত্যু সার্টিফিকেটেই ডেঙ্গির উল্লেখ, ‘খোলা ড্রেনের’ জন্য প্রশাসনকেই দুষল শোকাহত পরিবার

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গির হানায় একই পরিবারের দুই সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গির উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পুরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পরিবার সূত্রে খবর, লক্ষ্মীপুজোর দিন (শনিবার, ২০ অক্টোবর) মৃত্যু হয় ৪৯ বছর বয়সী বিপ্লব সর্দারের। বিপ্লব সর্দার প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে অসুস্থ থাকার পর কেপিসি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তবে বিপর্যয় এখানেই থামেনি। এর এক সপ্তাহ পর (শনিবার, ২৭ অক্টোবর) মৃত্যু হয় তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী বন্দনা সর্দারের (৪৪)।
একসপ্তাহ ভর্তি থেকেও হল না শেষরক্ষা: বন্দনা সর্দারের স্বামী কল্যাণ সর্দার জানান, তিনি নিজেও ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু এরপরেই তাঁর স্ত্রী বন্দনা সর্দার ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হন। তিনি জানান, “বাঙুর হাসপাতালে ওকে ভর্তি করেছিলাম। সেখানে একসপ্তাহ থাকার পর আমার স্ত্রী বন্দনার মৃত্যু হয়।” এখানেই শেষ নয়, তাঁদের ছোট মেয়েও ডেঙ্গি আক্রান্ত হলেও বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
প্রশাসনের উপর ক্ষোভ: একই ওয়ার্ডে পর পর দুই সদস্যের মৃত্যু এবং বাড়ির অন্যান্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় কল্যাণ সর্দার সরাসরি প্রশাসনকেই দুষলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের ওয়ার্ডে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত। এই দায় প্রশাসনের। শুধু মাঝে মধ্যে ব্লিচিং পাউডার ছড়িয়ে দিলেই পরিষ্কার হয় না। যথাযথ স্যানিটাইজেশন এখানে হয় না।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের এখানে ৩৫ বছর ধরে খোলা ড্রেন। শেষ একমাস ধরে আমারা এখানে ভুগছি।” তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মশার আঁতুড়ঘর তৈরি হয়ে আছে, যা মোকাবিলায় পুরসভা ব্যর্থ।