সোনম ওয়াংচুকের বিস্ফোরক মন্তব্যে তপ্ত রাজনীতি! ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সঙ্গে কি সত্যি দূরত্ব তৈরি হল?

NEET আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াতে একটানা অনশন আন্দোলন চালিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলেছিলেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ তথা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। কিন্তু সেই কঠিন লড়াইয়ের নেপথ্যেই কি বড় কোনো ফাটল ধরেছে? ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) বা সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে কি তাঁর দূরত্ব তৈরি হচ্ছে? সম্প্রতি ইউটিউবার প্রখর গুপ্তের একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে এই সমস্ত জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছেন খোদ সোনম ওয়াংচুক। সিজেপি নেতৃত্বকে নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
দিল্লির যন্তরমন্তরে যখন লাগাতার অনশন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন সোনম, সেই সময় তাঁর পাশে ছায়ার মতো দেখা যেত অভিজিৎ দীপ, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাদের। কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার হাত থেকে স্যুপ পান করে সোনম যখন হাসপাতাল থেকে অনশন ভাঙেন, তারপর থেকে আর সেভাবে তাঁদের একসঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এই সমীকরণের বদল নিয়েই যখন চর্চা তুঙ্গে, ঠিক তখনই সিজেপি সম্পর্কে নিজের অবস্থান একপ্রকার স্পষ্ট করে দিয়েছেন সোনম।
পডকাস্টে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে সোনম দাবি করেন, “ওঁরা একেবারেই সাধুপুরুষ নন যে কিচ্ছুটি চান না এবং সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে সবকিছু করছেন। আমার জোরালো মনে হয় ওঁদের পরিষ্কার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। হতে পারে সেই উচ্চাকাঙ্খা কোনো অন্যায় কিছু নয়। তবে আমাকে বা আমাদের সেই রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খার কথা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। আমি অন্তত এটুকু খুব ভালোভাবেই বুঝেছি।” সোনমের আরও দাবি, তিনি যখন এই ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন, তখন অনেকেই অভিজিতের আম আদমি পার্টি (AAP) যোগাযোগের কথা বলে তাঁকে আগেই সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তিনি সেইসময় বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেননি। কারণ অতীতে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা মানেই অপরাধ নয়। তবে তিনি প্রথম দিন থেকেই আন্দোলনের গায়ে কোনো রাজনৈতিক দলের তকমা বা রং লাগাতে নিষেধ করেছিলেন।
অনশন চলাকালীন অভিজিৎ এবং সিজেপি-র বাকি সদস্যদের নিজের অবস্থান একাধিকবার পরিষ্কার করে জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন সোনম। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, “মঞ্চে থাকাকালীন গোটা সময় ধরে ওঁদের বলে গিয়েছি যে, আপনাদের নিজস্ব রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকতেই পারে। তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিতে আসা অবশ্যই একটি শুভ লক্ষণ। তবে দয়া করে এই পবিত্র মঞ্চের মর্যাদা রক্ষা করুন। আন্দোলনকে নিরপেক্ষ থাকতে দিন, সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক থাকতে দিন এবং সরকারের ওপর শুধু চাপ তৈরি করতে দিন। তবেই আমরা আমাদের সঠিক ও অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব।”
সিজেপি নেতৃত্ব আগামী দিনে রাজনীতিতে প্রবেশ করলে দেশ বা সমাজ পরিচালনায় কতটা সফল হবেন, সেই প্রসঙ্গেও প্রশ্ন রাখা হয়েছিল সোনমের কাছে। যার জবাবে এক অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। সোনমের কথায়, “কারও সদিচ্ছা থাকলেও দক্ষতার অভাব অনেক সময় বড় সমস্যা তৈরি করে। কিন্তু কেউ যদি অত্যন্ত দক্ষ হন অথচ তাঁর উদ্দেশ্য অসৎ হয়, তবে তা সমাজের জন্য অনেক বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।” তবে সিজেপি নেতৃত্বও পরবর্তীতে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে কি না, সে বিষয়ে আগাম মন্তব্য করতে নারাজ তিনি। সোনমের মতে, সেই বিষয়ে বিচার করার সময় এখনও আসেনি।
প্রসঙ্গত, গত ২০ জুলাই যন্তরমন্তরে দিল্লি পুলিশের তীব্র অভিযানের পর আন্দোলনস্থলের ভিড় মুহূর্তের মধ্যে ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। সেই চরম সংকটজনক মুহূর্তে সিজেপি-র একজন সদস্য সোনমকে অনুরোধ করেছিলেন, যেন তিনি সকলকে আপাতত চলে যেতে বলেন এবং পরে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু পরদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আন্দোলনকারীরা সাহসের সঙ্গে ফিরে আসেন। আর তাতেই আন্দোলন নতুন করে গতি পায় এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি আরও জোরাল হয়ে ওঠে।
তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি প্রসঙ্গে একটা সময় সোনম নিজের সুর কিছুটা নরম করেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছিল। এই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সোনম জানিয়েছেন, ধর্মেন্দ্রর ইস্তফা তাঁর কাছে ঠিক ততটা প্রাধান্য পায়নি, কারণ তাতে সামগ্রিক আন্দোলনের বৃহত্তর ক্ষতি হচ্ছিল বলে তিনি মনে করছিলেন। পাশাপাশি, আরও বহু মানুষ ব্যক্তিগত স্বার্থে ইস্তফার দাবিতে সরব হয়েছিলেন। কিন্তু সোনমের প্রধান লক্ষ্য ছিল, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কোনো সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী বা কর্মী যেন অযথা কোনো আইনি ঝুটঝামেলায় না পড়েন। সেই আইনি সুরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি আদায় করাই তাঁর কাছে ছিল সবথেকে বড় অগ্রাধিকার।