মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ! উত্তরপ্রদেশে আউটসোর্স কর্মীদের সুরক্ষায় চালু হল ‘UPCOS’ পোর্টাল!

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বুধবার রাজধানী লখনউতে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘উত্তরপ্রদেশ আউটসোর্সড সার্ভিসেস কর্পোরেশন’ অর্থাৎ UPCOS পোর্টাল এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইট লঞ্চ করলেন। এটি মূলত রাজ্য স্তরের একটি অলাভজনক সরকারি সংস্থা, যার মূল এবং প্রধান উদ্দেশ্য হল রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত আউটসোর্স কর্মীদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা এবং তাঁদের কর্মসংস্থান ব্যবস্থাকে আরও বেশি নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল করে তোলা। এই নতুন পোর্টালটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ পদ্ধতিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরাসরি কর্মীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতন প্রদান নিশ্চিত করবে এবং সেই সঙ্গে সমস্ত আউটসোর্স কর্মচারীদের জন্য ইপিএফ এবং ইএসআই-এর মতো সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধাগুলোর সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের এই বিশেষ মঞ্চ থেকে নতুন এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের জন্য একটি নতুন ‘লোগো’ বা প্রতীক চিহ্ন উন্মোচন করা হয় এবং এর পাশাপাশি উপস্থিত কিছু আউটসোর্স কর্মীদের হাতে সরাসরি আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়। সমবেত জনতাকে উদ্দেশ্য করে নিজের বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বিগত সরকারগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিযোগ করেন যে, অতীতে তৎকালীন শাসকরা আউটসোর্স কর্মীদের মানুষ বলেই গণ্য করত না, বরং তাঁদের ওপর অকথ্য শোষণ চালাত। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন যে, ২০১৭ সালের পূর্ববর্তী সরকারগুলি আউটসোর্স কর্মচারীদের সমাজের বোঝা বলে মনে করত। সেই কারণেই তারা তৎকালীন সময়ে যে সমস্ত আউটসোর্স এজেন্সি বা সংস্থাকে নিয়োগের দায়িত্ব দিয়েছিল, সেগুলি আসলে তাদেরই নিজস্ব দলের রাজনৈতিক নেতা বা আত্মীয়দের মালিকানাধীন ছিল। তারা চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিয়োগ এবং পোশাক দেওয়ার নাম করে অসহায় কর্মীদের ওপর নানাবিধ শোষণ চালাত। কিন্তু বর্তমান সরকার এই ধারণা সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে আউটসোর্স কর্মীদের বোঝা না ভেবে রাজ্যের বহুমূল্য ‘সম্পদ’ হিসেবে গণ্য করেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন যে, উত্তরপ্রদেশ রাজ্য আজ উন্নয়নের যে স্বর্ণশিখরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে, তার পেছনে রয়েছে স্থায়ী এবং আউটসোর্স—উভয় শ্রেণীর কর্মীদেরই অক্লান্ত পরিশ্রম ও অবদান। এই সাফল্যের যাত্রায় শহরাঞ্চলের সাফাইকর্মী থেকে শুরু করে সরকারি ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিটি কর্মীর অবদান সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ‘উত্তরপ্রদেশ আউটসোর্সড সার্ভিসেস কর্পোরেশন’ হল রাজ্য সরকারের একটি সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ, যার সুবাদে প্রতিটি আউটসোর্স কর্মী তাঁদের কাজের সঠিক স্বীকৃতি, প্রাপ্য সম্মান এবং পূর্ণ সামাজিক মর্যাদার অধিকারী হবেন।
সরকার এবং কর্মচারীদের পারস্পরিক সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, এই সম্পর্ক কেবল মাসোহারা বা আর্থিক লেনদেনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই পারস্পরিক বিশ্বাসকে সবসময় অটুট রাখতে হলে কর্মীদের কেবল ফাইলের স্তূপে ডুবিয়ে না রেখে তাঁদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। প্রতিটি কর্মীর মনে এই দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাতে হবে যে তাঁদের ভালো কাজের পূর্ণ রেকর্ড রাখা হচ্ছে, কোনো সমস্যা হলে তা শোনার সুব্যবস্থা রয়েছে এবং তাঁরা কোনোভাবেই একা নন। প্রত্যেক কর্মীকে তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের সঠিক ও উপযুক্ত পারিশ্রমিক সময়মতো প্রদান করতে হবে এবং শ্রমের পূর্ণ মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। সামাজিক ভেদাভেদ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে হলে সবার আগে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা একান্ত প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।