সোদপুরে স্ত্রীর রক্তে রাঙল রাস্তা, বারুইপুরে এনকাউন্টারে খতম নাবালিকা খুনের অভিযুক্ত!

সোদপুর এবং বারুইপুর—উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গের দুই প্রান্ত। বুধবার দুপুরে সোদপুরের প্রকাশ্য রাস্তায় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী রইল স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে, বারুইপুরে পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু হলো নাবালিকা নির্যাতন ও খুনের অভিযোগে ধৃত এক অভিযুক্তের। দুই ঘটনার জেরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে।
সোদপুরের ঘটনায় মৃত গৃহবধূর নাম গীতা দাস। অভিযোগ, স্বামী প্রভাস দাস প্রকাশ্য দিবালোকে স্ত্রীর ওপর চড়াও হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্ত্রীকে খুন করার পর অভিযুক্ত স্বামী নিজেও নিজের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। বর্তমানে প্রভাস দাস ওই একই হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে, তবে ঠিক কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরেই এই চরম সিদ্ধান্ত।
এদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য ধৃতকে নিয়ে যখন ঘটনাস্থলে যাওয়া হচ্ছিল, তখনই সে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশের দাবি, পুনর্নির্মাণের সময় ওই ধৃত অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয় এবং এক রাউন্ড গুলি চালায়। সে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ বাধ্য হয়েই পাল্টা গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বারুইপুর এনকাউন্টারের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কড়াকড়ি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্তের পালানোর চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। পুলিশ প্রশাসন পুরো বিষয়টির উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।