সেবাশ্রয় না কি যমদূত? হাঁটু ব্যথা, পচন ধরল, পা বাদ গেল, ঠিক কী ঘটেছে মহিলার সঙ্গে?

হাঁটু ব্যথার সামান্য চিকিৎসা করাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের একটি পা-ই খোয়াতে হলো ষাটোর্ধ্ব মালতী বিশ্বাসকে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা স্বাস্থ্য পরিষেবা ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্পের বিরুদ্ধে উঠেছে এই ভয়াবহ অভিযোগ। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী বৃদ্ধা এখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই তাঁর এই চরম পরিণতির জন্য দায়ী করেছেন এবং সাংসদসহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনগর থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করেছেন।
বছরখানেক আগে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মহেশতলায় আয়োজিত হয় ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবির। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তৃণমূল কাউন্সিলর ও কর্মীরা সক্রিয়ভাবে মালতী বিশ্বাসকে এই ক্যাম্পে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ওষুধ খাওয়া শুরু করেন। কিন্তু মালতীর অভিযোগ, ওষুধ খাওয়ার পর ব্যথা কমার বদলে তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে।
পরবর্তী সময়ে যখন বৃদ্ধাকে বাঙুর হাসপাতাল থেকে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়, তখন চিকিৎসকরা জানান, সেবাশ্রয় ক্যাম্প থেকে দেওয়া ওষুধের মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তাঁর পায়ের স্নায়ুগুলি অকেজো হয়ে গিয়েছে। গঠন করা হয় মেডিক্যাল বোর্ড। বোর্ডের চিকিৎসকরা জানান, তাঁর পায়ে পচন (gangrene) ধরেছে, যা দূর করতে পা কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। এরপর দীর্ঘ ৯৬ দিন হাসপাতালে ভর্তি থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নিজের পা খোয়াতে হয় তাঁকে।
পরিবারের অভিযোগ: ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ৯ দিনের মাথায় ধরা পড়েছিল যে অস্ত্রোপচারের সময় পায়ের শিরা কেটে ফেলা হয়েছিল, যা পচনের অন্যতম কারণ। এই দীর্ঘ সময়ে মালতীর পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট অফিসে গিয়ে দেখা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, সাংসদ সেখানে থাকা সত্ত্বেও দেখা করেননি এবং তাঁর দফতরের কর্মীরাও এই ঘটনার কোনো দায় নিতে অস্বীকার করেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ: বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ার পর নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য দফতর। মালতী বিশ্বাসের পরিবারকে স্বাস্থ্য ভবনে ডেকে পাঠিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা: শ্বারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি স্বয়ং ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প ‘সেবাশ্রয়’-এর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ ওঠায় বিরোধী শিবির একে হাতিয়ার করে শাসকদলকে তীব্র নিশানা করেছে। তৃণমূল সাংসদ তথা এই প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া দেন, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে রাজ্যবাসী।