হিন্দু রাষ্ট্র নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য বাবা রামদেবের, রাজনৈতিক মহলে শোরগোল!

হিন্দু রাষ্ট্র গঠন নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত ঘটালেন যোগগুরু বাবা রামদেব। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে রামদেব হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের ধারণাকে অত্যন্ত সহজভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। তাঁর দাবি, এই বিষয়টি নিয়ে কোনোভাবেই ভীত হওয়ার প্রয়োজন নেই। রামদেবের মতে, ভারত একটি প্রাচীন সভ্যতা এবং এর ভিত্তি সনাতনী হিন্দু আর্য বৈদিক ঐতিহ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই হিন্দু রাষ্ট্রের ধারণা কোনো রাজনৈতিক বিভাজন নয়, বরং এটি একটি অখণ্ড সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পুনর্জাগরণ।

হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নে মুসলমানদের ভয়ের কোনো কারণ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন রামদেব। তিনি বলেন, “ধর্ম ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষরা একই। ভারতীয় মুসলমানদের উচিত নিজেদের শিকড় ও পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যকে গ্রহণ করা।” তাঁর মতে, ভারতের প্রতিটি নাগরিকের পূর্বপুরুষ সনাতনী হিন্দু আর্য বৈদিক ছিলেন। দীর্ঘ সময় আগে পরিস্থিতির বিবর্তনে ধর্মীয় পরিবর্তন এলেও সবার ডিএনএ (DNA) অভিন্ন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ২০০৯ সালের দেওবন্দ সফরের কথা উল্লেখ করেন এই যোগগুরু। তিনি জানান, সেই সময়ও তিনি একই বার্তা দিয়েছিলেন যে, ভারতের মুসলিমরা ভারতীয় হিসেবেই থাকবেন এবং তাঁদের সাথে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সমাজের কোনো সংঘাত থাকা উচিত নয়। রামদেবের দাবি, হিন্দু রাষ্ট্র মানে এমন এক রাষ্ট্র যেখানে কোনো ধর্মের মানুষেরই শঙ্কার কারণ থাকবে না, বরং সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাবে।

তবে রামদেবের এই মন্তব্যের পরই বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সমালোচকদের মতে, আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে হিন্দু রাষ্ট্রের এই ধরনের সংজ্ঞা সাংঘর্ষিক হতে পারে। রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রামদেব এমন সময় এই মন্তব্য করেছেন যখন দেশে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় ইস্যুতে মেরুকরণ চরমে। হিন্দু রাষ্ট্রের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে এভাবে ‘পূর্বপুরুষ অভিন্ন’ দাবি করার অর্থ হলো ধর্মীয় পরিচয়কে সংকীর্ণ গণ্ডিতে ফেলার চেষ্টা।

অন্যদিকে, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি রামদেবের এই সাহসী মতামতের প্রশংসা করেছে। তাঁদের মতে, হিন্দু রাষ্ট্র মানেই এক সুশৃঙ্খল এবং গৌরবময় ভারতের প্রত্যাবর্তন। যদিও বিতর্ক শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে মেরুকরণের রাজনীতির পথকে প্রশস্ত করল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। রামদেবের এই দাবি আদতে ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা নাকি বিভাজনের রাজনীতি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।