রাজ্যে পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল এবং কড়াকড়ির ইঙ্গিত মিলল। এবার সড়ক নিরাপত্তা এবং ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল নতুন বিজেপি সরকার। এতদিন পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে হেলমেট ছাড়া বাইক চালানোর যে প্রবণতা এক শ্রেণির চালকদের মধ্যে ছিল, তাতে দাঁড়ি টানতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য পুলিশ। নবান্ন থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নিয়ম ভাঙলেই এবার কড়া আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে চালকদের।
হেলমেটহীন চালকদের জন্য দুঃসংবাদ:
রাজ্য পুলিশের জারি করা সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাইক চালানোর সময় হেলমেট পরা এখন থেকে বাধ্যতামূলক। অভিযোগ উঠছিল যে, কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে ট্র্যাফিক আইনের তোয়াক্কা না করেই একাংশ যুবক হেলমেট ছাড়াই দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। বিশেষ করে রাতের শহরে দ্রুত গতিতে বাইক চালানো এবং হেলমেট না পরার ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিশৃঙ্খলা রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামছে পুলিশ।
কী থাকছে নতুন নির্দেশিকায়?
নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, হেলমেটবিহীন চালকদের ধরতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। এই অভিযানের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
যৌথ অভিযান: ট্র্যাফিক বিভাগ এবং স্থানীয় থানাগুলিকে একসঙ্গে মিলে নাকা চেকিং ও বিশেষ তল্লাশি চালাতে বলা হয়েছে।
সরাসরি নজরদারি: গোটা প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি নজর রাখবেন এডিজি ট্র্যাফিক (ADG Traffic)। প্রতিটি জেলা এবং কমিশনারেট থেকে নিয়মিত রিপোর্ট সংগ্রহ করবেন তিনি।
শূন্য সহনশীলতা: নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, হেলমেট ছাড়া কাউকে রাস্তায় দেখলেই তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো রকম সুপারিশ বা প্রভাব খাটানোর সুযোগ থাকবে না।
রাতের দাপট রুখতে বিশেষ নজর:
কলকাতা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং বাইপাস এলাকায় রাতে বাইক বাহিনীর দাপট সবথেকে বেশি থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পুলিশের উপস্থিতিতেও হেলমেট ছাড়াই গতির ঝড় তুলছেন চালকরা। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই পুলিশকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দেওয়া হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। রাতের বিশেষ পেট্রোলিং ভ্যান এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের বাড়িতে সরাসরি চালান পাঠানোর ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হচ্ছে।
জীবন রক্ষায় কড়াকড়ি:
ট্র্যাফিক পুলিশের পদস্থ আধিকারিকদের মতে, প্রচার এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে বারবার আবেদন জানানো হলেও অনেকেই তা গুরুত্ব দেন না। দুর্ঘটনায় প্রাণহানির অন্যতম প্রধান কারণ হলো হেলমেট না পরা। একটি সাধারণ হেলমেট একজন চালকের প্রাণ বাঁচাতে পারে— এই বার্তাকেই এবার আইনি বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে কার্যকর করতে চাইছে প্রশাসন। সরকারি এই কড়া মনোভাবের ফলে রাজ্যের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





