হিমন্ত বিশ্বশর্মা ‘বড় ভাই’, বাংলাতেও এবার ‘অসম মডেল’? গুয়াহাটিতে শপথ নিয়েই অনুপ্রবেশ রুখতে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

অসমের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। টানা তৃতীয়বারের মতো অসমে ক্ষমতায় ফিরল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। মঙ্গলবার গুয়াহাটিতে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বার শপথ নিলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তবে এদিনের অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শপথগ্রহণের মঞ্চ থেকে অসমের জনগণকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি বাংলার অনুপ্রবেশ সমস্যা নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি।

হিমন্ত আমার ‘বড় ভাই’:
অসমের মুখ্যমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করে শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে নিজের ‘বড় ভাই’ বলে সম্বোধন করেন। শুভেন্দু বলেন, “হিমন্তজি শুধু একজন দক্ষ প্রশাসকই নন, তিনি আমার অভিভাবকতুল্য। তাঁর কাজের ধরন এবং মাটির কাছাকাছি থাকার মানসিকতা থেকে আমি প্রতিনিয়ত শিখি। আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।” রাজনৈতিক মহলের মতে, দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘনিষ্ঠতা আগামী দিনে পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।

অনুপ্রবেশ রুখতে ‘অসম মডেল’ বাংলায়:
এদিন শুভেন্দু অধিকারীর বক্তৃতায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে অনুপ্রবেশ ইস্যু। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, আগের সরকার বিএসএফ-কে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য জমিও বরাদ্দ করেনি। শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা, “অসম ও ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার আসার পর অনুপ্রবেশকারীদের দাপট বন্ধ হয়েছে। এবার বাংলাতেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকে (BSF) সবরকম সহযোগিতা করা হবে এবং অনুপ্রবেশ রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে আমাদের সরকার।”

অসমের কর্মীদের ধন্যবাদ:
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক ২০৭টি আসনে জয়ের নেপথ্যে অসমের বিজেপি কর্মীদের অবদানের কথা স্বীকার করেন শুভেন্দু। তিনি জানান, বিহার, ওড়িশা, সিকিম এবং অসম— এই রাজ্যগুলি একসঙ্গে মিলে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করবে।

অসম বিধানসভার সমীকরণ:
উল্লেখ্য, ১২৬ আসনের অসম বিধানসভায় ১০২টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাধিক্য পেয়েছে এনডিএ। এর মধ্যে বিজেপি একাই জিতেছে ৮২টি আসনে। এদিন হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রামেশ্বর তেলি, অতুল বোরা, চরণ বোরা এবং অজন্তা নিয়োগ। বিধানসভার স্পিকার পদে মনোনীত করা হয়েছে প্রবীণ বিজেপি নেতা রঞ্জিত দাসকে। সব মিলিয়ে, হিমন্তের শপথে শুভেন্দুর উপস্থিতি দুই রাজ্যের মধ্যে এক মজবুত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সেতুবন্ধন তৈরি করল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy