যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু PM-SHRI সেমিনার, শিক্ষা ক্ষেত্রে মোদী-ম্যাজিকে সিলমোহর

রাজ্যের প্রশাসনিক পালাবদলের পর কি এবার দিল্লির সঙ্গে সংঘাতের পথ ছেড়ে সমন্বয়ের পথে হাঁটছে নবান্ন? অন্তত শিক্ষা ক্ষেত্রের এক বড় সিদ্ধান্ত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। একদা যে ‘পিএম শ্রী’ (PM SHRI Schools) প্রকল্প নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল, এবার সেই প্রকল্পের হাত ধরেই মেগা ইভেন্টের সাক্ষী হতে চলেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।

আগামী ১৩ মে থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিগুণা সেন প্রেক্ষাগৃহে শুরু হচ্ছে উদ্ভাবন ও মেন্টরশিপ বিষয়ক তিন দিনের বিশেষ কর্মসূচি। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রায় ২০০ জন শিক্ষক ও পড়ুয়া যোগ দেবেন।

কেন এই ইউ-টার্ন? ২০২৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত এই প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য দড়ি টানাটানি চরমে ছিল। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর অভিযোগ ছিল, প্রকল্পের নামের আগে ‘পিএম শ্রী’ লিখতে হবে— এই শর্ত না মানায় ‘সর্বশিক্ষা মিশন’-এর কয়েক হাজার কোটি টাকার তহবিল আটকে রেখেছে কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও কেরল ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলি এই প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু গত ৪ মে বাংলায় ক্ষমতার হাতবদলের পর সেই অবস্থানে বড়সড় নমনীয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

যাদবপুরে কী হতে চলেছে? বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের ‘ইনোভেশন সেল’ এই কর্মসূচির জন্য ১৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। উপাচার্যের মতে, এই ধরনের কর্মসূচি রাজ্যে আরও বেশি হওয়া উচিত যাতে ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত হয় এবং কেন্দ্রীয় অনুদান আরও বেশি করে বাংলায় আসে।

পড়ুয়াদের জন্য বড় পুরস্কার: এই তিন দিনের কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ হলো ‘স্কুল ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’।

  • আর্থিক সহায়তা: নির্বাচিত সেরা উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলিকে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হতে পারে।

  • পেটেন্ট সুবিধা: কেন্দ্রের ‘কপিলা ইনিশিয়েটিভ’-এর মাধ্যমে উদ্ভাবনের স্বত্ব বা পেটেন্ট নিবন্ধনের জন্য ৩৪,১০০ টাকা পর্যন্ত অনুদান পাবে স্কুলগুলি।

কেন্দ্রীয় অনুদানেই কি ভরসা? সম্প্রতি কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের ৯.৬৬ কোটি টাকার অনুদানে যাদবপুরে একটি প্রথাগত চিকিৎসা মূল্যায়ন কেন্দ্রও গড়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রের বকেয়া টাকা আদায় এবং আটকে থাকা প্রকল্পগুলি চালু করতে মরিয়া প্রশাসন। শিক্ষা ক্ষেত্রে এই নতুন সমীকরণ বাংলার পড়ুয়াদের জন্য বড় সুযোগ খুলে দিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy