রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসছে তৃণমূল নেতাদের একের পর এক চাঞ্চল্যকর ‘কীর্তি’। কয়েকদিন আগেই কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুমে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ব্যক্তিগত গোডাউন থেকে উদ্ধার হলো সরকারি ত্রাণ সামগ্রী। শুধু তাই নয়, ওই গোডাউনের পাশেই ইসিএলের একটি গেস্ট হাউস থেকে উদ্ধার হয়েছে ড্রয়ার ভর্তি কন্ডোমের প্যাকেট। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
দীর্ঘদিনের রাজনীতিবিদ নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী একসময় পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক এবং জেলা তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠতে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য আসা সরকারি ত্রাণ সামগ্রী সঠিক সময়ে বিতরণ না করে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে তা নিজের গোডাউনে মজুত করে রেখেছিলেন। শুক্রবার এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শতাধিক মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা চড়াও হন প্রাক্তন বিধায়কের বাড়ি ও গোডাউনে। সেখানে সরকারি ত্রিপল এবং অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী মজুত থাকতে দেখে ক্ষোভ চরমে ওঠে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গোডাউনটি সিল করে দেয়। গোডাউনের পাশেই থাকা ইসিএলের গেস্ট হাউসটির দুটি ঘর সুসজ্জিত অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই গেস্ট হাউসটি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর দখলে ছিল। তল্লাশি চালাতে গিয়ে একটি ঘরের ড্রয়ার খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ পুলিশ ও স্থানীয়দের। সেখানে বিপুল পরিমাণ কন্ডোমের প্যাকেট পাওয়া যায়। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, ত্রাণের জন্য সাধারণ মানুষ যখন হাহাকার করছিল, তখন বিধায়ক সরকারি সামগ্রী নিজের গোডাউনে ভরে রেখেছিলেন। মানুষ এতদিন ভয়ে মুখ খোলেনি।
যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “পাণ্ডবেশ্বরের মানুষ আমাকে চেনেন। আমি মায়ের মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছি। কিছু মানুষ নোংরা জিনিস রেখে আমার চরিত্র হননের চেষ্টা করছে। আমি এই প্রতিহিংসার রাজনীতির তীব্র নিন্দা জানাই।” তিনি বিচারভার পাণ্ডবেশ্বরের জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বললেও, তৃণমূলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সুজিত মুখোপাধ্যায় এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি তুলেছেন। সব মিলিয়ে, প্রাক্তন বিধায়কের এই কাণ্ড নিয়ে এখন রাজ্যজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।





