লোকসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ আবহেই ফের একবার আইনি লড়াইয়ে বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগের বিরোধিতা করে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। কিন্তু শনিবার বিচারপতি পিএস নরসিমা এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির অবকাশকালীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে তারা কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। অর্থাৎ, কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ীই কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে ও কেন্দ্রীয় কর্মীদের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে ভোট গণনার কাজ।
আদালতের লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, এর আগে কলকাতা হাইকোর্টও তৃণমূলের এই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। তৃণমূলের দাবি ছিল, ভোট গণনার প্রতি টেবিলে অন্তত একজন করে রাজ্য সরকারি কর্মচারীকে নমিনি হিসেবে রাখা হোক। হাইকোর্টে পরাজয়ের পর তড়িঘড়ি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় এআইটিসি (AITC)। কিন্তু সেখানেও শেষরক্ষা হলো না।
সিব্বলের যুক্তি ও বিচারপতির পালটা প্রশ্ন:
এদিন শীর্ষ আদালতে তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “নির্বাচন কমিশন কিসের ভিত্তিতে আগে থেকে আশঙ্কা করছে যে প্রতিটি বুথে সমস্যা হতে পারে? কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে কেন অন্ধকারে রাখা হলো?” সিব্বল আরও দাবি করেন, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদেরও সামিল করা উচিত।
তৃণমূলের এই যুক্তির পালটা জবাবে বিচারপতি বাগচী প্রশ্ন করেন, “কাদের নিয়োগ করা হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ এক্তিয়ার নির্বাচন কমিশনের। এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার আইনি বাধ্যবাধকতা কোথায়?” বিচারপতি আরও যোগ করেন, “গণনার টেবিলে কাউন্টিং এজেন্ট, সুপারভাইজার এবং মাইক্রো অবজারভার থাকছেন। সেখানে একজন কেন্দ্রীয় কর্মী থাকলে সমস্যা কোথায়? দিনশেষে তো সকলেই সরকারি কর্মচারী।”
সিসিটিভি ফুটেজ ও কমিশনের অবস্থান:
শুনানি চলাকালীন হার নিশ্চিত বুঝে কপিল সিব্বল দাবি করেন, তবে গণনার সিসিটিভি ফুটেজ যেন সংরক্ষিত রাখা হয়। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু আদালতকে আশ্বস্ত করে জানান, নিয়ম অনুযায়ী সিসিটিভি ফুটেজ ৪৫ দিনের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে দুই বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, নির্বাচন কমিশন যে সার্কুলার জারি করেছে, তা যেন অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়। কমিশনের প্রশাসনিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে মামলাটির নিষ্পত্তি করে দেয় আদালত। রাজনৈতিক মহলের মতে, গণনার আগে তৃণমূলের কাছে এটি একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক পরাজয়।





