উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর জেলায় এক রোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। গভীর রাতে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে চোর সন্দেহে গ্রামবাসীদের হাতে চরম হেনস্থা ও গণপিটুনির শিকার হলেন এক যুবক। তবে ঘটনার মোড় ঘোরে তখন, যখন পুলিশের উপস্থিতিতে যুবকটি নিজের আসল পরিচয় এবং সেখানে আসার কারণ প্রকাশ করেন। বর্তমানে এই ‘প্রেম কাহিনী’ পুরো মারদাহ থানা এলাকা জুড়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত মৌ জেলার হলধরপুর থানা এলাকার বেরিয়া বিশানপুর গ্রামে। ওই গ্রামের বাসিন্দা অজয় রাজভর গত দুদিন আগে গভীর রাতে মারদাহ থানার অন্তর্গত একটি গ্রামে তার প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। নিরাপত্তার খাতিরে অজয় সরাসরি প্রেমিকার বাড়িতে না ঢুকে গ্রামের প্রান্তে একটি নির্জন মাঠে আস্তানা গেড়েছিলেন। কথা ছিল, সুযোগ বুঝে তার প্রেমিকা সেখানেই তার সঙ্গে দেখা করতে আসবেন।
কিন্তু বিধি বাম! সম্প্রতি ওই এলাকায় চুরির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় গ্রামবাসীরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছিলেন। টহল দেওয়ার সময় মাঠের কোণে সন্দেহজনকভাবে একজনকে লুকিয়ে থাকতে দেখে গ্রামবাসীদের মনে সন্দেহ জাগে। মুহূর্তের মধ্যেই চোর সন্দেহে তাকে ঘিরে ধরে শুরু হয় বেধড়ক মারধর। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে জড়ো হন বহু মানুষ। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচতে যুবকটি বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও কেউ তা কানে তোলেনি।
অবশেষে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধরের মুখে কান্নায় ভেঙে পড়েন অজয়। তিনি স্বীকার করেন, “আমি চোর নই, আমি আমার প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।” যুবকের এই স্বীকারোক্তি শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান গ্রামবাসীরা। এরপর তার পরিচয় নিশ্চিত করতে বাড়িতে ফোন করা হলে জানা যায় অজয়ের দাবি সত্য। পরিস্থিতি জটিল দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।
মারদাহ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুবকটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারাবতী জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে এটি সম্পূর্ণ একটি প্রেমের বিষয় এবং চুরির সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র নেই। পুলিশ উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করে একটি লিখিত সমঝোতায় পৌঁছায়। তদন্ত শেষে এবং কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য না থাকায় যুবকটিকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনাটি একদিকে যেমন হাসির খোরাক জুগিয়েছে, অন্যদিকে রাতের অন্ধকারে সাবধানে চলাফেরার ব্যাপারেও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে।





