দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিমের ১১টি বুথ এবং ডায়মন্ড হারবারের ৪টি বুথে পুনর্নির্বাচন হলেও এখন সবথেকে বড় রহস্য দানা বাঁধছে ফলতাকে ঘিরে। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিয়ে ওঠা গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগের জেরে এবার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। জল্পনা তুঙ্গে যে, ফলতায় পুনর্নির্বাচন বা ‘রিপোল’ হতে পারে স্বয়ং গণনার পরেও!
কমিশনের হাতে ব্রহ্মাস্ত্র:
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কমিশন চাইলে গণনার পরেও নির্দিষ্ট কিছু বুথে পুনর্নির্বাচন করার ক্ষমতা রাখে। ফলতার ক্ষেত্রে এই বিশেষ আইন প্রয়োগের সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে। তবে অন্য একটি সূত্রের খবর, গণনার আগের দিন অর্থাৎ রবিবারও তড়িঘড়ি ভোট নেওয়া হতে পারে। গতকালই ফলতা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় জল্পনা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
ফলতায় ঠিক কী ঘটেছিল?
ফলতায় মোট ২৩৮টি বুথের মধ্যে প্রায় ৩০টি বুথকে ‘সন্দেহজনক’ বলে চিহ্নিত করেছে কমিশন। চাঞ্চল্যকর তথ্য এই যে, বেশ কিছু বুথে ১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে আসছে। এখানেই শেষ নয়, ইভিএমে রহস্যময় টেপ লাগানো থাকার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। অভিযোগ উঠেছে, অত্যন্ত কৌশলে বেশ কিছু বুথের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। নেটওয়ার্কের সমস্যার দোহাই দিয়ে সেই তথ্য ওয়েবকাস্টিং কন্ট্রোল রুমে পৌঁছাতে দেওয়া হয়নি বলে মনে করছেন কমিশনের কর্তারা।
প্রিসাইডিং অফিসারের ডায়েরিতে বিস্ফোরক তথ্য:
কমিশন বর্তমানে প্রিসাইডিং অফিসারদের ডায়েরি এবং খাতা খতিয়ে দেখছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, দুপুর ১টার মধ্যেই বহু বুথে ৫৮ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে গিয়েছিল। এই অস্বাভাবিক হারের ভোটদান এবং একইসঙ্গে ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া—সব মিলিয়ে একটি বড়সড় কারচুপির আশঙ্কা করছে কমিশন। সন্দেহভাজন ৩০টি বুথ নিয়ে বিশেষ স্ক্রুটিনি চলছে। যদি বড় কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তবে ফলতার ফলাফল স্থগিত রেখে পুনর্নির্বাচনের পথে হাঁটবে কমিশন। গণনার ঠিক আগে ফলতা নিয়ে এই ‘সাসপেন্স’ এখন শাসক-বিরোধী উভয় শিবিরেরই রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।





