সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) চেষ্টা রুখে দিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের নানামুখী তৎপরতার মুখে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। বৃহস্পতিবার বিজিবির সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহের মহেশপুর, যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় এবং সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে বিএসএফ ও স্থানীয় ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশিদের পুশ-ইন করার প্রচেষ্টা চালানো হয়। যশোরের সামন্তা বিওপি এলাকায় প্রিজন ভ্যানে করে ৩৫ জনকে সীমান্তের গেট দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ তাদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। একইভাবে ঝিনাইদহের যাদবপুর এবং জয়পুরহাটের কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তে বিএসএফের প্রতিটি অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ও অন্যান্য সীমান্তে হোল্ডিং সেন্টারে আটকে রাখা ব্যক্তিদের পুশ-ইনের তথ্য পাওয়ার পর বিজিবি সেখানে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সিলেট সীমান্তে আটক দুই ভারতীয় নাগরিককে বিজিবি যাচাই-বাছাই শেষে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠিয়েছে। এছাড়া, নেত্রকোনার কচুগড়া সীমান্তে প্রাকৃতিক কারণে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় যে এলাকাটি দিয়ে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা ছিল, সেখানে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিজিবি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছে যে, আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থী কোনো প্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইন প্রচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত এবং কোনো গোষ্ঠী বা দলকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তজুড়ে বিজিবির অপারেশনাল কার্যক্রম এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।





