সিবিএসই-র অন্দরে ‘পকেটমারি’! উত্তরপত্র যাচাইয়ের মাশুল গুনছে ছাত্ররা, ফুঁসছেন রাহুল গান্ধী

জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা এবং সিবিএসই (CBSE)-র মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে দেশজুড়ে যখন তীব্র বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণের সুর চড়িয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার সকালে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে রাহুল গান্ধী সিবিএসই-র বিরুদ্ধে সরাসরি ‘পকেটমারি’-র অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, বোর্ড যে ফি কাঠামো নির্ধারণ করেছে, তা আদতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর এক ধরনের অন্যায্য আর্থিক বোঝা।

রাহুল গান্ধী সিবিএসই-র একটি বিজ্ঞপ্তির তালিকা পেশ করে দেখিয়েছেন যে, ডিজিটাল স্ক্যান করা উত্তরপত্রের কপি পেতে হলে একজন পরীক্ষার্থীকে প্রতিটি বিষয়ের জন্য ১০০ টাকা দিতে হচ্ছে। আবার নম্বর পুনঃগণনার জন্য প্রতি পেপারে ১০০ টাকা এবং প্রতিটি প্রশ্নের পুনর্মূল্যায়নের জন্য ২৫ টাকা করে ফি ধার্য করা হয়েছে। রাহুল গান্ধীর মতে, কোনো শিক্ষার্থী যদি নিজের খাতার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে চায়, তবে তাকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হতে পারে। তাঁর ক্ষোভের মূল জায়গা হলো, ভুলটি করেছে সিবিএসই, অথচ তার মাশুল গুনতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। রাহুল গান্ধীর কথায়, “পকেটমারদের থেকে সাবধান, আজ তারা খোদ সিবিএসই-র অন্দরে ঘাঁটি গেড়ে বসেছে।”

কংগ্রেস নেতার বিস্ফোরক মন্তব্য, যেখানে স্ক্যানিং প্রক্রিয়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে, সেখানে নম্বরের হিসেবে গরমিল হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সরকারি ভুল সংশোধনের জন্য যখন শিক্ষার্থীকে পকেট থেকে টাকা দিতে হয়, তখন সেটি নৈতিকভাবে অপরাধের শামিল। রাহুল গান্ধী মনে করছেন, ৪ লক্ষ পরীক্ষার্থী যখন এই ফি দিয়ে আবেদন করবে, তখন সিবিএসই-র ঘরে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব জমা হবে। অর্থাৎ, বোর্ডের ব্যর্থতা থেকেই সরকারি কোষাগারে মুনাফা ঢুকছে।

এই বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন কেন্দ্রীয় সরকার আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিতব্য নিট (NEET) পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফেরাতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে এবং তা নিরাপদে পৌঁছে দিতে এবার সরাসরি সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্র। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের মধ্যকার সাম্প্রতিক বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র পরিবহনের জন্য সেনা হেলিকপ্টার ব্যবহারের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, যাকে প্রশাসনিক মহলের একাংশ বোর্ডের চরম ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

উল্লেখ্য, সিবিএসই দ্বাদশের পরীক্ষার মূল্যায়ন ঘিরে প্রায় ১৮ লক্ষ পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ। অতীতে কোনো পরীক্ষায় এত বিশাল সংখ্যক পড়ুয়া ক্ষতির মুখে পড়েনি। এই বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে খোদ সরকারের অন্দরেই। যদিও ধর্মেন্দ্র প্রধান এই ঘটনার নৈতিক দায় নিয়েছেন, কিন্তু বিরোধী দলের ক্রমাগত চাপের মুখেও তাঁর পদত্যাগের দাবি ঘিরে অনিশ্চয়তা কাটছে না। আপাতত, শিক্ষামন্ত্রকের ওপর থেকে এই বিতর্কের ছায়া কবে কাটে এবং সেনাবাহিনীর নজরদারিতে নিট পরীক্ষা কতটা সফল হয়, সেদিকেই তাকিয়ে সারা দেশ।