হাইভোল্টেজ শপথগ্রহণ: মন্ত্রিসভায় নতুন ও অভিজ্ঞের মেলবন্ধন, কোন দায়িত্ব পেলেন কারা?

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোমবার বেলা ১১টায় কলকাতার লোকভবনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করল। রাজ্যপাল আরএন রবির উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সুশৃঙ্খল ও জমকালো অনুষ্ঠানে মোট ৩৫ জন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে পদ ও গোপনীয়তার শপথ নিলেন। জাতীয় স্তোত্র ও ‘বন্দেমাতরম’ সঙ্গীতের মূর্ছনায় মুখরিত এই অনুষ্ঠান ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজ্য রাজনীতির ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।
নতুন সরকারের এই ক্যাবিনেট গঠনে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের প্রজ্ঞা এবং নতুন মুখের তারুণ্যের মধ্যে এক দারুণ ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে। পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মোট ১৩ জন বিধায়ক। এই তালিকায় যেমন উত্তরবঙ্গের মাটি কামড়ে পড়ে থাকা নেতা শঙ্কর ঘোষ ও কোচবিহারের দীপক বর্মন রয়েছেন, তেমনি কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের দাপুটে নেতা তাপস রায় এবং অর্জুন সিংকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে। বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিক স্বপন দাশগুপ্তর অন্তর্ভুক্তি মন্ত্রিসভার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়াও পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, গৌরীশঙ্কর ঘোষ, মনোজ কুমার ওরাওঁ, অরূপকুমার দাস, অজয়কুমার পোদ্দার, কল্যাণ চক্রবর্তী এবং বীরভূমের পোড় খাওয়া নেতা দুধকুমার মণ্ডল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ণমন্ত্রীদের এই তালিকায় রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তের সামাজিক ও ভৌগোলিক সমীকরণ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
মন্ত্রিসভাকে আরও কর্মক্ষম করতে তিনজনকে বিশেষ ‘স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী’ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য নাম হলো চিকিৎসক ইন্দ্রনীল খাঁ। পাশাপাশি, জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গের মানুষের কণ্ঠস্বর পৌঁছে দিতে এবং আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে রাজেশ মাহাতো ও মালতী রাভা রায়কে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন আরও ১৬ জন বিধায়ক। এই তালিকায় যেমন রয়েছেন প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ অশোক দিন্দা, তেমনি রয়েছেন একাধিক মহিলা এবং প্রান্তিক সমাজ থেকে উঠে আসা প্রতিনিধিরা। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন জোয়েল মুর্মু, হরেকৃষ্ণ বেরা, আনন্দময় বর্মন, চাঁদ বাউরি, বিশাল লামা, শান্তনু প্রামাণিক, মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, উমেশ রাই, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, কৌশিক চৌধুরী, ভাস্কর ভট্টাচার্য, দিবাকর ঘরামি, অমিয়া কিস্কু, কলিতা মাজি এবং গার্গী দাস ঘোষ।
এদিনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব—শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার এবং রাহুল সিনহার মতো প্রথম সারির নেতারা। শপথ গ্রহণের পরপরই নতুন মন্ত্রীদের কণ্ঠে শোনা গিয়েছে উন্নয়নের সুর। তাঁদের মূল লক্ষ্য—রাজ্যের থমকে থাকা প্রকল্পগুলোকে দ্রুত গতির পথে নিয়ে আসা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা। লোকভবনের এই মেগা অনুষ্ঠান ঘিরে উৎসবে মেতে উঠেছিল অনুগামীরা। এখন দফতর বণ্টনের অপেক্ষায় বাংলার মানুষ। দ্রুত কাজ শুরু করে এই বিশাল মন্ত্রিসভা রাজ্যের প্রশাসনিক রূপরেখাকে কোন উচ্চতায় নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।