‘ঘরে বসে ডিলিমিটেশন ও সেনসাসের নামে চক্রান্ত চলছে!’ ৩২ লক্ষ নাম বাদ যাওয়া নিয়ে বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই সমাজমাধ্যমকে হাতিয়ার করে বর্তমান শাসকদলের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনে চলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার একটি ফেসবুক লাইভ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে রাজ্য সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে আরও একবার তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। এদিনের তাঁর প্রধান নিশানায় ছিল সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন (Delimitation), জনগণনা (Census) এবং স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন দুর্নীতির প্রসঙ্গ।

ডিলিমিটেশন ও সেনসাস নিয়ে বড় অভিযোগ

ভিডিও বার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা দাবি করেন, বিরোধী দলগুলিকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে এবং তাদের কোনওরকম যুক্ত না করেই ঘরে বসে একতরফাভাবে ডিলিমিটেশন ও সেনসাসের কাজ চালাচ্ছে সরকার। তাঁর অভিযোগ, জোর করে পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং জেলা পরিষদগুলি দখল করা হয়েছে।

জনগণনা নিয়ে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এমনিতেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কারণে ৩২ লক্ষ মানুষের নাম এখনও বাদ পড়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণনার নামে কার নাম থাকবে আর কার নাম বাদ যাবে, তা নিয়ে বড়সড় রাজনৈতিক চক্রান্ত চলছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

মন্দির এবং প্রণামী বাক্স লুটের অভিযোগ

প্রশাসনিক দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে এদিন সরাসরি ধর্মীয় স্থানগুলি নিয়েও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের রুটিরুজি থেকে শুরু করে ধর্মীয় স্থানগুলিকেও দুর্নীতির আখড়া বানিয়েছে শাসকদল। তীব্র কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “এরা রাম মন্দির থেকে শুরু করে, পানিহাটির মন্দির থেকে শুরু করে, বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির, বেনারস, মধ্যপ্রদেশ থেকে অসম পর্যন্ত— সব জায়গার প্রণামী বাক্স লুট করছে! ভাবছে প্রণামী বাক্সটাও বুঝি বিজেপির অধিকার!” বর্ধমানের একটি পুকুর সংস্কারের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের জায়গায় জোর করে গেরুয়া বাহিনী গিয়ে উদ্বোধনের নামে অধিকার ফলাচ্ছে।

গঙ্গাজলঘাঁটির আশা কর্মীর মৃত্যু প্রসঙ্গে ক্ষোভ

বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাঁটিতে এক আশা কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিজেপির বিধায়ক ও নেতাদের অভদ্র আচরণ ও ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন মমতা। শোকস্তব্ধ ওই আশা কর্মীর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, আগামী এক-দুদিনের মধ্যেই সেখানে দলের একটি প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে। বিরোধী আসনেই থাকুন বা যেখানেই থাকুন, মানুষের ওপর হওয়া এই অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন বলেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।