‘আমাকে রাস্তায় নামতে দেওয়া হচ্ছে না!’ মৌলিক অধিকার হরণের অভিযোগে বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই দল ভাঙার হিড়িক ও চরম রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এই দুঃসময়েও লড়াইয়ের ময়দান ছাড়তে নারাজ দলনেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি লাইভ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বর্তমান বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিশালী বার্তা দেন তিনি।

মৌলিক অধিকার খর্ব করার অভিযোগ

এদিনের ভিডিও বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে এবং তাঁর দলীয় কর্মীদের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমাকে রাস্তায় বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না, কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির পারমিশন দেওয়া হচ্ছে না, আমাকে কোর্টে গিয়ে পারমিশন নিতে হচ্ছে।” ভারতীয় সংবিধানের ১৪, ১৯ এবং ২১ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সাধারণ নাগরিকদের সমস্ত সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার সরাসরি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েও কাঙ্ক্ষিত সুরাহা মিলছে না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পংক্তি আওড়ে বলেন, “বিচারের বাণী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় আজও নীরবে নিভৃতে কাঁদে।”

বর্তমান সরকারকে কড়া চ্যালেঞ্জ

বর্তমান সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “আমায় আপনারা যত আটকাবার চেষ্টা করবেন, আমি আরও দ্বিগুণভাবে ঘুরে দাঁড়াব।” ক্ষমতার চেয়ার বা পদের প্রতি তাঁর কোনো মোহ নেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি চেয়ারকে কেয়ার করি না, আমি মানুষকে কেয়ার করি।” সেই সঙ্গে তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি— “লড়ে নেব, লড়ব, গড়ব, জিতব।”

প্রশাসন ও দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের আমলে বিধায়করা বিডিও বা আইসি-দের চেয়ারে গিয়ে দাদাগিরি করছেন এবং টাকার বান্ডিল গোনা হচ্ছে। এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত উপার্জনের পথও বন্ধ করার চক্রান্ত চলছে বলে দাবি করে তিনি জানান, আজ পর্যন্ত তিনি সরকার থেকে এক পয়সাও মাইনে বা পেনশন নেননি, সম্পূর্ণভাবে নিজের বইয়ের রয়্যালটির ওপর নির্ভর করে চললেও, এবছর সেই রয়্যালটির টাকা থেকেও তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

নারী নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তোপ

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং নারী সুরক্ষা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে মমতা বলেন, ব্রীজভূষণ মামলা থেকে শুরু করে আড়াই বছরের শিশু— কেউ ন্যায়বিচার পাচ্ছে না। রাজ্যে একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও পুলিশি হুমকি ও বাধার কারণে নির্যাতিতাদের পাশে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। বাংলাটাকে একটি “কারাগারে পরিণত করা হয়েছে” বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

ভিডিওর শেষে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “সামটাইম সাইলেন্স ইজ গোল্ড। কিন্তু মনে রাখবেন কখনও কখনও সময় আসে যখন সব বাঁধ ভেঙে যায়… তখন কিন্তু নদী পথ গতিরোধ করা যায় না, নদী কিন্তু আপন পথে এগিয়ে চলে।”