রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপির প্রথম সারির নেতা-নেত্রীদের নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ধারাবাহিক অশ্লীল ও মানহানিকর পোস্ট করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা। ধৃতের নাম রাজেশ চক্রবর্তী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে একাধিক ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে লাগাতার কুরুচিকর মন্তব্য এবং আপত্তিকর পোস্ট করে আসছিল বলে অভিযোগ।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। বিজেপির এক মহিলা নেত্রী কলকাতা পুলিশের সাইবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং গেরুয়া শিবিরের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সামাজিক মাধ্যমে লাগাতার কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ চালানো হচ্ছে। শুধু গঠনমূলক রাজনৈতিক সমালোচনা নয়, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং চরম অশালীন মন্তব্য পোস্ট করা হচ্ছিল। এই ধরনের কার্যকলাপ সমাজে অস্থিরতা তৈরি করছে এবং অস্থির পরিবেশ সৃষ্টি করছে বলে দাবি করেন ওই নেত্রী।
অভিযোগ পাওয়ার পরেই কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারীরা অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে পোস্টগুলির উৎস খুঁজে বের করার কাজ শুরু করেন। ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট, আইপি অ্যাড্রেস এবং সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলির তথ্য বিশ্লেষণ করে ধীরে ধীরে অভিযুক্তের মুখোশ খুলে যায়। তদন্তে উঠে আসে যে, একাধিক ভিন্ন ভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধাচের ভাষা ব্যবহার করে পোস্ট করা হচ্ছিল। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, এই পুরো চক্রের পেছনে রাজেশ চক্রবর্তীর সরাসরি হাত রয়েছে।
তদন্তের পর একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাইবার ক্রাইম শাখার আধিকারিকরা অভিযুক্ত রাজেশ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেন। ধৃতের কাছ থেকে বেশ কিছু ইলেকট্রনিক গ্যাজেট, মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাজেয়াপ্ত হওয়া ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে, যাতে এই ঘটনার পেছনে আরও কেউ যুক্ত আছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া যায়। ধৃতের সাথে কোনো প্রভাবশালী চক্রের যোগ আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
গ্রেফতারের পর রাজেশ চক্রবর্তীকে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। মামলার গুরুত্ব ও স্পর্শকাতরতা বিচার করে আদালত অভিযুক্তকে আগামী ২৭ মে পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি আইনজীবী আদালতে জোর দিয়ে বলেন যে, অভিযুক্তের সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপ এবং তার নেটওয়ার্কের গভীরতা বোঝা অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের পোস্টের মাধ্যমে সমাজে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা আইনিভাবে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। সাইবার অপরাধ দমন এবং সামাজিক মাধ্যমে সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশি এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের বিশেষজ্ঞরা।





