বেশি প্রোটিন খেলেই কি ফিট হওয়া যায়? অজান্তেই কোন মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনছেন না তো!

প্রোটিন আমাদের শরীরের জন্য অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান হলেও, উচ্চ প্রোটিন এবং অতিরিক্ত প্রোটিনের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। ফিটনেসপ্রেমীরা অনেক সময় দৈনিক চাহিদার চেয়ে বেশি প্রোটিন গ্রহণ করে থাকেন, যা উপকারের চেয়ে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের ফলে কিডনিকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়, যা দুর্বল কিডনির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া, খাদ্যতালিকায় ফাইবার বা আঁশের ঘাটতি থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফাঁপার মতো হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং চর্বিযুক্ত প্রাণীজ প্রোটিনের উৎস থেকে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও লবণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি হয়। আইএসআরএন নিউট্রিশন জার্নালে প্রকাশিত ২০১৩ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে যে, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক প্রস্তাবিত মাত্রা হলো প্রতি কেজি ওজনের জন্য মাত্র ০.৮ গ্রাম প্রোটিন। অতিরিক্ত প্রোটিন অ্যাসিড তৈরি করে যার ফলে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে ক্যালসিয়াম বেরিয়ে যায় এবং হাড়ের ক্ষয় ও ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘকাল ধরে অতিরিক্ত লাল মাংস বা উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে কোলন ও পাকস্থলীর মতো বিভিন্ন ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির পাশাপাশি লিভারের কার্যকারিতাও ব্যাহত হতে পারে। তাই সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পরিমিত পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।