সরকারি স্কুল পরিদর্শনে গিয়েই চরম বাধার মুখে CJP! জয়পুরের ঘটনা ঘিরে ধুন্ধুমার

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সরকারি স্কুলগুলির বেহাল পরিকাঠামো এবং পঠনপাঠনের বাস্তব চিত্র জনসমক্ষে তুলে ধরতে আসরে নেমেছে কক্রোচ জনতা পার্টি (CJP)। কিন্তু এই অভিযান চালাতে গিয়েই রাজস্থানের জয়পুরে তীব্র বাধার মুখে পড়তে হলো তাদের। শুক্রবার জয়পুরের রামপুরা-কানওয়ারপুরা গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে সিজেপি (CJP)-র কর্মীদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, শেষ পর্যন্ত চরম হেনস্থার শিকার হয়ে দলটির কর্মীদের স্কুল চত্বর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হতে হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে রাজস্থান জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, সরকারি স্কুলগুলির শ্রেণিকক্ষ, শৌচাগার এবং সামগ্রিক সুযোগ-সুবিধা খতিয়ে দেখার লক্ষ্যেই ‘স্কুল ঠিক করো’ (School Thik Karo) শীর্ষক বিশেষ অভিযান শুরু করেছে সিজেপি। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই শুক্রবার দলটির একটি প্রতিনিধি দল সংশ্লিষ্ট গ্রামে পৌঁছায়। কিন্তু তারা গ্রামে প্রবেশের আগেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ গ্রামের মূল প্রবেশপথে ব্যারিকেড তৈরি করে পথ আটকায়। এমনকি গ্রামে ঢোকার মুখে গাড়ি থামিয়ে জোরদার তল্লাশিও চালানো হয় বলে খবর। এর পরেই সিজেপি কর্মীদের সঙ্গে গ্রামবাসীদের তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং সিজেপি কর্মীদের সেখান থেকে পিছু হঠতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, সিজেপির সহ-সমন্বয়কারী আশুতোষ রাঙ্কা-সহ উপস্থিত দলীয় কর্মীদের স্থানীয়রা ধাওয়া করে বের করে দেন। এমনকি এই ধস্তাধস্তির জেরে সিজেপির কয়েকটি গাড়ির কাচও ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতির ছবি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের বয়ানে তীব্র অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। সিজেপি নেতৃত্ব সরাসরি এই হামলার পেছনে শাসক দল বিজেপির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে। সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা দাবি করেছেন যে, যাঁরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তাঁরা কেউই সাধারণ গ্রামবাসী নন, বরং তাঁরা বিজেপির পাঠানো ‘গুন্ডা’। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট শেয়ার করে তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকারি স্কুলগুলির আসল কদর্য রূপ ও অব্যবস্থার চিত্র যাতে সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ না পায়, সেই কারণেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপও কর্মীদের ওপর শারীরিক আক্রমণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা সিজেপির সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের একাংশ দাবি করেছেন যে, স্কুলের পরিকাঠামোগত সমস্যা নিয়ে তাঁরা নিজেরাই চিন্তিত, তবে কোনো রাজনৈতিক দলের বহিরাগত কর্মীরা এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করুক, তা তাঁরা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
What the F is happening in Rajasthan?????
Goons of BJP are after the blood of Ashutosh and other CJP volunteers.
How can @PoliceRajasthan allow this kind of attack? pic.twitter.com/F3kdPwS4kD
— Abhijeet Dipke (@abhijeet_dipke) August 21, 2026
এই পুরো ঘটনার জেরে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশি ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও বাগরুর ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ ধর্মেন্দ্র শর্মা জানিয়েছেন যে, এই ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে তাঁর কাছে নির্দিষ্ট কোনো খবর নেই, ফলে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজস্থান শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে যে, উপযুক্ত অনুমতি ছাড়া কোনো বহিরাগত ব্যক্তি সরকারি স্কুলগুলিতে প্রবেশ করতে পারবেন না। স্কুলের স্বাভাবিক পঠনপাঠন ও কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করলে বা অনুমতি ছাড়া ছবি ও ভিডিও তুললে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিজেপির দাবি, সরকারি স্কুলগুলির বেহাল দশা ধামাচাপা দিতেই এমন নিয়ম আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে, স্কুল পরিদর্শনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জয়পুরের রাজনৈতিক পারদ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।