শিলিগুড়ি করিডর নিয়ে বড় হুঙ্কার অমিত শাহের! ‘চিকেনস নেক’ রক্ষায় কীসের মাস্টারপ্ল্যান নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী?

দেশের ভূগোলে উত্তরবঙ্গ একটি অত্যন্ত সরু ভৌগোলিক ফালি হলেও কৌশলগত গুরুত্বের দিক থেকে তা গোটা ভারতের কাছে অন্যতম সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর অঞ্চল। ভারতীয় ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান এবং একমাত্র লাইফলাইন হলো শিলিগুড়ি করিডর, যা সাধারণত ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। শুক্রবার শিলিগুড়িতে এসে সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করিডরের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় ও সার্বিক সুরক্ষা নিয়ে অত্যন্ত কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা, দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় শিলিগুড়ি করিডরকে সর্বতোভাবে সুরক্ষিত রাখতে একগুচ্ছ কঠোর ও সুদূরপ্রসারী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। শুধু আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষাই নয়, প্রশাসনিক পরিকাঠামো শক্তিশালী করা থেকে শুরু করে আধুনিক রেল যোগাযোগের মাধ্যমে রাজধানী দিল্লির সঙ্গে উত্তরবঙ্গের দ্রুত সংযোগ স্থাপনের একাধিক মাস্টারপ্ল্যানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এদিন শিলিগুড়িতে সশস্ত্র সীমা বল (SSB)-এর আঞ্চলিক সদর দফতরে আয়োজিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে যোগ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বিশেষ বৈঠকেও অংশ নেন তিনি। সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় মূলত ‘চিকেনস নেক’-এর আকাশ ও স্থলপথের নিরাপত্তা সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেওয়া হয়। নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত এই ভূখণ্ড দিয়েই উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির সঙ্গে মূল ভারতীয় ভূখণ্ডের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় থাকে। ফলে এই করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্র যে সবসময় সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে, অমিত শাহের এদিনের বক্তব্যে তা আরও একবার অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এদিনের সফরে শিলিগুড়িতে প্রায় ৮০ একর জমির ওপর একটি সুবৃহৎ প্রশাসনিক ভবন গড়ে তোলার বড় ঘোষণা করেছেন অমিত শাহ। তাঁর মতে, করিডরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতেই এই অত্যাধুনিক পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দেশের রাজধানী দিল্লির দীর্ঘ দূরত্বের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে এক বৈপ্লবিক পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। শিলিগুড়ি থেকে দিল্লির মধ্যে অতি দ্রুত রেল যোগাযোগের একটি নতুন প্রকল্পের রূপরেখা তুলে ধরে শাহ বলেন, এর জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের আর মাত্র দু-তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে। তাঁর জোরালো দাবি, আগামী দিনে শিলিগুড়ির মানুষ বিমান ছাড়াও অত্যন্ত দ্রুতগামী ট্রেনের মাধ্যমে সরাসরি দিল্লি পৌঁছে যেতে পারবেন।
তবে এদিনের এই হাই-প্রোফাইল বক্তৃতার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল সীমান্তের জমি অধিগ্রহণ এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের পুরনো প্রশাসনিক টানাপড়েন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি অভিযোগ, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জমি চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করা হলেও আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। তাঁর দাবি, ২০১৪ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধাপে আন্তর্জাতিক সীমান্তের সুরক্ষার স্বার্থে প্রায় ১১২৯ একর জমি চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু পূর্ববর্তী ও বর্তমান রাজ্য প্রশাসনের অসহযোগিতার জেরে সেই জমি সময়মতো হাতে পাওয়া যায়নি।