গ্রামীণ ভারতে বিপ্লব আনবে স্টারলিঙ্ক? এলন মাস্কের ঘোষণায় নেটদুনিয়ায় শোরগোল!

ভারতের প্রত্যন্ত এবং পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের ডিজিটাল জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনতে পারে স্টারলিঙ্ক। সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এক্স-এ (যেটি পূর্বে টুইটার নামে পরিচিত ছিল) এমনই এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আশাবাদী বার্তা দিয়েছেন স্পেসএক্স ও স্টারলিঙ্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) এলন মাস্ক। যদিও এখনও পর্যন্ত ভারতের মাটিতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি ছাড়পত্র বা লাইসেন্স পায়নি এই বিশ্বখ্যাত সংস্থাটি, তবুও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির সঙ্গে তাদের লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া বর্তমানে একটি উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে এগিয়ে চলেছে। কবে নাগাদ ভারতে তাদের বাণিজ্যিক পরিষেবা পুরোপুরি চালু হবে, সেই বিষয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে নিশ্চিত করে কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করা না হলেও, এলন মাস্কের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য দেশের টেলিকম বাজারে নতুন করে ব্যাপক কৌতূহল ও জল্পনার সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি ‘ডোজডিজাইনার’ (DogeDesigner) নামক একটি ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেল থেকে ভারতের গ্রামীণ ইন্টারনেট পরিকাঠামো নিয়ে বেশ কিছু চোখ খুলে দেওয়ার মতো তথ্য প্রকাশ করা হয়। ওই পোস্টে মূলত তিনটি প্রধান দিক তুলে ধরা হয়েছিল। প্রথমত, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ভারতের প্রায় ১১ হাজার ২৫৬টি গ্রামে এখনও পর্যন্ত কোনো ধরনের ৪জি (4G) কভারেজ পৌঁছয়নি। দ্বিতীয়ত, ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত গোটা দেশে ইন্টারনেট সাবস্ক্রিপশনের মোট সংখ্যা ১.০৯৩ বিলিয়ন পেরিয়ে গেলেও, তার মধ্যে গ্রামীণ অঞ্চলে সাবস্ক্রিপশনের পরিমাণ মাত্র ৪৪০.৮৭ মিলিয়ন। সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের গ্রামীণ এলাকায় প্রতি ১০০ জনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা মাত্র ৪৮.৩১ জন।
তৃতীয়ত, ভারতনেট প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৮ লক্ষ ৫০ হাজার কিলোমিটার ফাইবার কেবল পাতা হয়েছে এবং ২ লক্ষ ২১ হাজার গ্রাম পঞ্চায়েত পরিষেবা চালুর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত মাত্র ৮০ হাজার ৪৭২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এই প্রকল্পের সুফল পেতে কাজ শুরু করেছে। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, বর্তমান সময়ে মোবাইল ইন্টারনেটের ব্যাপক ও সহজলভ্য ব্যবহারের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ফাইবার ইন্টারনেটের ব্যবহার নেওয়ার ক্ষেত্রে খানিকটা অনীহা লক্ষ্য করা গেছে।
এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্য তুলে ধরে করা ওই পোস্টটি রি-টুইট করেন খোদ এলন মাস্ক। তিনি মন্তব্য করেন যে, স্টারলিঙ্ক ভারতের দূরবর্তী ও পিছিয়ে পড়া গ্রামীণ অঞ্চলগুলির ডিজিটাল পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করতে পারে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রদানকারী সংস্থাগুলির মধ্যে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে স্টারলিঙ্ক। লো ল্যাটেন্সি হাই-স্পিড ইন্টারনেট পরিষেবার পাশাপাশি ডিরেক্ট-টু-ডিভাইস (Direct-to-Device) প্রযুক্তিও প্রদান করার পরিকল্পনা রয়েছে এই সংস্থার। যদিও ২০২১ সালের শেষের দিকেই ভারতে এই পরিষেবা চালুর প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে বিভিন্ন আইনি জটিলতা এবং নীতিগত নিয়মের বেড়াজালে সেই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে থমকে গিয়েছিল।
তবে বর্তমানে সমস্ত বাধা বিপত্তি কাটিয়ে নতুন করে ভারতের বাজারে প্রবেশের জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে স্টারলিঙ্ক। চলতি বছরের জুন মাসেই স্টারলিঙ্কের বিজনেস অপারেশনসের ভাইস প্রেসিডেন্ট লউরেন ড্রেইয়ার নিশ্চিত করেছিলেন যে, ভারতে অতি দ্রুত কমার্শিয়াল অপারেশন শুরু করার জন্য তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকদের সঙ্গে লাগাতার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন দেখার বিষয়, সমস্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া পেরিয়ে কবে নাগাদ ভারতের আকাশে পাকাপাকিভাবে ডালপালা মেলে এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট জায়েন্ট।