কেন সংসদ মার্গ থানার বাইরে বসে পড়লেন রাহুল? পেলেট গান কাণ্ডে উত্তাল দিল্লি

দিল্লি পুলিশের ভূমিকা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নীতি নিয়ে ফের একবার তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতে উত্তপ্ত হলো জাতীয় রাজধানী। শুক্রবার বেলায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি সংসদ মার্গ থানার বাইরে ধর্নায় বসে পড়েন। যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজিপি আন্দোলনের সময় ছররা গুলিতে বা পেলেট গানে আহত এক তরুণ আন্দোলনকারীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি থানায় পৌঁছন। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং ছররা গুলি চালানোর অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের করার জোরালো দাবি জানান তিনি।
এদিন সাহিল লোহবচ নামক ওই আহত সিজিপি আন্দোলনকারীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় ঢোকেন রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও সংসদ মার্গ থানা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর নিতে গড়িমসি করছে। এই অসহযোগিতার প্রতিবাদেই থানার বাইরে মাটিতে বসে পড়েন দেশের অন্যতম শীর্ষ এই রাজনৈতিক নেতা। ঘটনার জেরে মুহূর্তের মধ্যে সংসদ মার্গ থানা চত্বরে চরম নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মীরা আকস্মিক এই ভিড় ও পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খান।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রাহুল গান্ধী দিল্লি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নূপুর প্রসাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। জানা গিয়েছে, এই ঘটনার তদন্তভার সম্প্রতি তাঁর হাতেই ন্যস্ত হয়েছে। পেলেট গান ব্যবহারের মতো সংবেদনশীল ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি কতদূর, সে বিষয়ে স্পষ্ট প্রশ্ন রাখেন রাহুল। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সদর্থক পদক্ষেপ না করায় তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা এবং কুমারী শৈলজাসহ কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষস্থানীয় প্রবীণ ও নবীন নেতাও এই ধর্না কর্মসূচিতে রাহুলের পাশে এসে বসেন। কংগ্রেসের স্পষ্ট বার্তা, সাধারণ ছাত্র এবং যুব সমাজের এই ন্যায্য লড়াইয়ে তারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রাস্তায় থাকবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরেও একইভাবে ধর্নায় বসেছিলেন রাহুল গান্ধী। থানার বাইরে এই অবস্থান বিক্ষোভের মাধ্যমে কেবল দিল্লি পুলিশ নয়, খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ওপর রাজনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিলেন তিনি। গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে ককরোচদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এই গোটা ঘটনার সূত্রপাত হয়। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা এবং অত্যন্ত আলোচিত প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে সেখানে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন আন্দোলনকারীরা। সেই সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একাধিক ছাত্র পেলেট গানের জেরে গুরুতর আহত হন। চিকিৎসকরাও পরে নিশ্চিত করেন যে ওই যুবকদের শরীরে থাকা ক্ষতচিহ্নগুলি ছররা গুলির ফলেই সৃষ্টি হয়েছে। সংসদের অন্দরেও এই নিয়ে বারবার সরব হয়েছে কংগ্রেস। এখন দেখার, থানার বাইরে এই হাই-ভোল্টেজ প্রতিবাদের পর প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।