আইপিএল-এর অন্যতম সফল দল মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অন্দরে এখন শুধু ‘অল ইজ নট ওয়েল’-এর সুর নয়, বরং প্রবল চর-আতঙ্ক। হার্দিক পান্ডিয়ার অধিনায়কত্ব ছাড়া থেকে শুরু করে মাঠের বাইরের নানা জল্পনা—সব মিলিয়ে এক গভীর সংকটের মুখে মুম্বই শিবির। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ড্রেসিংরুমের গোপন আলোচনা ও সিদ্ধান্ত বাইরে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় চূড়ান্ত বিরক্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি ম্যানেজমেন্ট।
ড্রেসিংরুমে বিভেদ ও তথ্য পাচার: রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ড্রেসিংরুম এখন স্পষ্টত দুই ভাগে বিভক্ত—একদিকে হার্দিক পান্ডিয়া, অন্যদিকে দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার। ২০২৪ সালে রোহিত শর্মাকে সরিয়ে হার্দিককে অধিনায়ক করার পর থেকেই এই বিভেদ শুরু হয়। সমর্থকদের তীব্র কটাক্ষ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রচার হার্দিককে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে বলে খবর। এই তিক্ততার সুযোগেই দলের অন্দরের খবর বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছে।
কী বলছে ম্যানেজমেন্ট? দলের সঙ্গে যুক্ত এক সূত্র টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, “যেকোনো ড্রেসিংরুমেই মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে এই সমস্যা এখন চরমে। দলের ভেতর কী ঘটছে তা বোঝার জন্য খুব বেশি বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তবে বড় সমস্যা হলো, এই দলের মতো একটি পেশাদার ফ্র্যাঞ্চাইজির অভ্যন্তরের খবর বাইরে বেরিয়ে আসছে। কে বা কারা এই তথ্য পাচার করছে, তা খুঁজে বের করাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত: গত মরসুমে ১৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র চারটি জিতে পয়েন্ট টেবিলের নবম স্থানে শেষ করেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। এর ওপর হার্দিকের অধিনায়কত্ব ছাড়া এবং তাঁর দল ছাড়ার জল্পনা মুম্বইয়ের কর্তাদের চিন্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ড্রেসিংরুমের এই অশান্তি এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের বাতাবরণ কাটাতে না পারলে আগামী মরসুমেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের।
ম্যানেজমেন্ট এখন মরিয়া হয়ে ড্রেসিংরুমের এই ‘লিক’ বা তথ্য পাচারের উৎস খুঁজছে। দলের শৃঙ্খলা ফেরাতে হার্দিকের উত্তরসূরি খোঁজার পাশাপাশি ড্রেসিংরুমের পরিবেশ স্বাভাবিক করাই এখন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।





