“সবই গদ্দারি!”-দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়কদের চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ মমতার

দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রতকে টিকিট দেওয়া তাঁর ‘ভুল’ ছিল বলে স্বীকার করে নিয়ে তৃণমূল নেত্রী সরাসরি তোপ দাগলেন এই প্রাক্তন সিপিএম নেতাকে।

ঋতব্রতকে নিয়ে কী বললেন মমতা? নাম না করে ঋতব্রতর উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, “যাঁরা দলের টিকিটে জিতে গদ্দারি করছেন, তাঁদের চিনে রাখুন। সিপিএম যখন তাঁকে তাড়িয়েছিল, তখনই তারা ঠিক করেছিল। আমার কাছে এসে পায়ে ধরে অনুরোধ করেছিলেন বলেই তাঁকে টিকিট দিয়েছিলাম। এমনকি অন্যদের টিকিট কেটে তাঁকে হাওড়ায় দাঁড় করিয়েছিলাম। তিনি আজ আমাদের জ্ঞান দিচ্ছেন, তার জন্য আমি জনগণের কাছে ক্ষমা চাইছি।” মমতার সাফ কথা, ঋতব্রতর কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই এবং তিনি নীতিহীন।

কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নিশানা? দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং ভাঙনের চেষ্টার অভিযোগ তুলে মমতা আক্রমণ করেন দলের এক সাংসদকেও। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তাঁর নিশানায় ছিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। মমতা বলেন, “একজন সাংসদও অন্যদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন, কারণ তাঁর ছেলেকে টিকিট দেওয়া হয়নি। বহুদিনের সাংসদ হয়েও আজ দলের বিরোধিতা করছেন। আপনি যদি কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে রাজনীতি করেন, তবে দল কী করবে?”

অভিষেকের হামলা প্রসঙ্গে বিজেপিকে কাঠগড়ায় সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনাটি ‘পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্ত’ বলে দাবি করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “অভিষেক হেলমেট পরেছিলেন বলেই বেঁচে গিয়েছেন, নতুবা সেদিন তাঁর প্রাণ যেতে পারত। বিজেপি পরিকল্পনা করে বাইরের লোকজন এনে এই হামলা চালিয়েছিল। পুলিশের সামনেই সবটা হয়েছে, এর যোগ্য জবাব মানুষ দেবে।”

দলের অন্দরেই যেভাবে বিধায়ক ও সাংসদদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মমতা, তাতে তৃণমূলের সাংগঠনিক অন্দরমহলে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy