সন্ধ্যা নামতেই আদিবাসী গ্রামে শিয়ালের আনাগোনা! ‘দাবাং শিয়াল’দের রুখতে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে বন দফতর?

দিনের আলো কমে আসার আগেই জেগে উঠছে জঙ্গল। আবার মাঝেমধ্যে দিনের আলোতেও সক্রিয় হচ্ছে তারা। কথা হচ্ছে শিয়ালের। দুর্গাপুর ও কাঁকসার সংলগ্ন জঙ্গলে ধূসর ও সোনালী শিয়ালের সংখ্যা গত কয়েক বছরে অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর ফলে জঙ্গল লাগোয়া আদিবাসী গ্রামগুলিতে বাড়ছে আতঙ্ক।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, শিয়ালের দল প্রায়ই গ্রামে ঢুকে হাঁস, মুরগি ও ছাগলের মতো ছোট গৃহপালিত পশুপাখিদের টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
শিয়ালের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ কী?
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের তুলনায় শিয়ালের সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক বন আধিকারিক জানান, ২০১৮-১৯ সালে কাঁকসার জঙ্গলে শিয়ালের সংখ্যা ছিল ৩০০ থেকে ৪০০, যা বর্তমানে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০-তে পৌঁছেছে।
জঙ্গলের ঘনত্ব বৃদ্ধি: শিয়ালের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ হলো, জঙ্গলের ঘনত্ব বেড়েছে এবং বন্যপ্রাণের সংখ্যাও বাড়ছে। এটি একদিক থেকে ভালো খবর বলে মনে করছে বন দফতর।
নিরাপদ আশ্রয়: জঙ্গল ঘন হওয়ার কারণে শিয়াল নিরাপদ বাসস্থান খুঁজে পেয়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রার কারণে প্রতি বছর শাবকের জন্ম হচ্ছে।
বসতি বৃদ্ধি: আরেক আধিকারিক জানান, শহরাঞ্চলে বসতি বাড়া ও কলকারখানার কারণে যেসব এলাকায় একসময় শিয়ালের বসবাস ছিল, তা দখল হয়ে গিয়েছে। এখন তারা কাঁকসা ও দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের জঙ্গলে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে।
গ্রামবাসীদের উদ্বেগ
গ্রামবাসীরা শুধু হাঁস-মুরগি নিয়ে যাওয়ার কারণেই নয়, আরও একটি কারণে বেশি চিন্তিত—তা হলো, গ্রামের ছোট ছেলেমেয়েদের উপর হামলার আতঙ্ক।
জঙ্গল লাগোয়া গ্রামের বাসিন্দা গোপাল মুর্মু বলেন, “কিছুদিন আগেই বাড়ির ভিতরে ঢুকে মুরগি নিয়ে চলে গেল শিয়াল। সন্ধের পর থেকে গ্রামের মধ্যেই ঘোরাঘুরি করে। বেশি ভয় বাইরে বাচ্চারা ঘোরাঘুরি করে। শিয়ালে কামড় দিয়ে দিতে পারে। বেশি ছোট বাচ্চাদের মুখে করে টেনে নিয়েও যেতে পারে। বন দফতর কিছু একটা ব্যবস্থা নিক।”
বন দফতরের অবস্থান ও পদক্ষেপ
দুর্গাপুর বনাঞ্চলের রেঞ্জার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেছেন যে শিয়ালের সংখ্যা বাড়ছে মানে জঙ্গলের ঘনত্বও বেড়েছে, এবং এটি বন্যপ্রাণ রক্ষার ক্ষেত্রে ইতিবাচক।
সচেতনতা ও নজরদারি: তিনি জানান, “হাঁস, মুরগি তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। সেই সব এলাকায় প্রচার শুরু হয়েছে। মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। আমরাও নজরদারি চালাচ্ছি।”
মানবিক বার্তা: তিনি আরও বলেন, “এই পৃথিবীতে সকলের সমান বাঁচার অধিকার আছে। বন্যপ্রাণীদেরও বাঁচতে দিতে হবে।”
তবে বন দফতরের কাছে এখনও নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও, ট্রাপ ক্যামেরা লাগানো হয়েছে এবং দ্রুত সঠিক সংখ্যা জানার চেষ্টা চলছে।