নগদ, ফিক্সড ডিপোজিট, ৬টি ফ্ল্যাট, ৭০০ গ্রাম সোনা! সরকারি পদের সুযোগ নিয়ে কীভাবে এই সম্পত্তি গড়লেন পুরসভার আধিকারিক?

আয় বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রাখার অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার হলেন কলকাতা পুরসভার (KMC) প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পার্থ চোংদার। রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা (Anti-Corruption Branch – ACB) বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে আটক করে। দীর্ঘ তদন্তের পর তাঁর বৈধ আয়ের তুলনায় প্রায় ৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকারও বেশি অনিয়ম ও সম্পত্তির হদিশ মেলার পরই এই গ্রেফতারি।
তদন্তকারীদের অনুমান, সরকারি পদে থাকার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি অনৈতিক উপায়ে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করছিলেন।
বেনামে বিপুল সম্পত্তির পাহাড়
দুর্নীতি দমন শাখা সূত্রে জানা গিয়েছে, পার্থ চোংদারের নামে ও বেনামে একাধিক চাঞ্চল্যকর সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে:
নগদ ও ফিক্সড ডিপোজিট: নিউটাউনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ২৮ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট সহ একাধিক বেসরকারি ব্যাংকে ১০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছেন তিনি।
শ্বশুরবাড়ির নামে অ্যাকাউন্ট: আরও বিস্ময়ের বিষয়, তিনি তাঁর মালদহবাসী শ্বশুর-শাশুড়ির ঠিকানা ব্যবহার করে কলকাতার বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় এক কোটি টাকা জমা করেছেন।
ফ্ল্যাট ও বাংলো: কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় তাঁর নামে ছ’টি ফ্ল্যাট এবং বোলপুরে ৩৬ লক্ষ টাকার একটি বাংলো থাকার অভিযোগ রয়েছে।
সোনা উদ্ধার: তাঁর ব্যাংক লকার থেকে ৭৩৪.৮৫ গ্রাম সোনা উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন শাখা।
সংস্থা: তিনি নিজের স্ত্রীর নামে একটি রিয়েল এস্টেট সংস্থা খুলেও তাতে বিনিয়োগ করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
বিদেশ ভ্রমণ ও তদন্তের গতি
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে পার্থ চোংদার একাধিকবার বিদেশ সফরে গিয়েছেন, কিন্তু সেই সফরের কোনও সরকারি অনুমোদন বা আয়ের উৎসের ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি। ইতিমধ্যেই তাঁর সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এই বিপুল সম্পত্তির প্রথম হদিশ মেলে। এরপর বিস্তারিত অনুসন্ধান শেষে যথেষ্ট প্রমাণ হাতে আসতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
রাজ্য পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “এই ঘটনায় আরও অনেকে যুক্ত থাকতে পারেন। সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” সরকারি ব্যবস্থায় দুর্নীতির শিকড় কত গভীরে, এই ঘটনা ফের সেই প্রশ্ন তুলেছে। দুর্নীতি দমন শাখা তাঁকে আদালতে তুলে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে।