ইউরোপে ‘আগুনের বৃষ্টি’! তীব্র তাপপ্রবাহে নাজেহাল জনজীবন, কেন এমন পরিস্থিতি?

প্রথাগত শীতল আবহাওয়া পেছনে ফেলে ইউরোপ এখন এক ভয়াবহ অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি। ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের মতো দেশগুলোতে আকাশ থেকে যেন আগুনের বৃষ্টি পড়ছে। তাপমাত্রা রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গরম থেকে বাঁচতে মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে নদী, হ্রদ কিংবা পাবলিক সুইমিং পুলে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ানক যে, বিশ্বের অন্যতম উন্নত এই দেশগুলোতেও বিদ্যুতের চাহিদা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যুৎ সংকট ও দাবানলের আতঙ্ক তাপপ্রবাহের জেরে ফ্রান্সে দেখা দিয়েছে চরম বিদ্যুৎ বিভ্রাট। ট্রান্সফর্মারের সমস্যায় ৬৮,০০০-এরও বেশি বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এর ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে দাবানল। ফ্রান্সের ব্রেনন বনে অগ্নিকাণ্ড নেভাতে দেড় শতাধিক দমকলকর্মীকে লড়তে হচ্ছে। দেশটির ৫৮টি অঞ্চলে ‘রেড অ্যালার্ট’ এবং ৩১টি অঞ্চলে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।
কেন ইউরোপে এই চরম তাপমাত্রা? বিশেষজ্ঞরা এই তীব্র তাপপ্রবাহের পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন:
ওমেগা ব্লক (Omega Block): আবহাওয়ার ম্যাপে গ্রিক বর্ণ ‘ওমেগা’ (Ω)-এর মতো উচ্চচাপ বলয় তৈরি হয়েছে, যা গরম বাতাসকে আটকে রাখছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে এক জায়গায় তাপ ধরে রাখছে।
হিট ডোম (Heat Dome): বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে উচ্চচাপের একটি স্তর তৈরি হয়েছে, যা ওভেনের মতো কাজ করছে। এটি বাইরের শীতল বাতাসকে প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছে এবং স্থলভাগের গরম বাতাসকে নিচে চেপে ধরছে।
জলবায়ু পরিবর্তন: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে আবহাওয়া চক্র অস্বাভাবিক হয়ে পড়েছে। সাধারণত ইউরোপে যে ঠান্ডা পরিবেশ দেখা যেত, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তা এখন চরমভাবাপন্ন হয়ে উঠছে।
নাভিশ্বাস জনজীবন এসি, ফ্যান বা কুলার কেনার জন্য শোরুমগুলোতে ভিড় উপচে পড়ছে। অনেক এলাকা এমন, যেখানে আগে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের প্রয়োজনই পড়ত না, ফলে সেখানে এই ভয়াবহ গরমে মানুষের মৃত্যুর খবরও আসছে। জনজীবন সচল রাখতে রাস্তার পাশে জল ছিটানোর বিশেষ যন্ত্র বা ওয়াটার স্প্রিঙ্কলার বসানো হয়েছে।
ইউরোপের এই বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা না করলে ভবিষ্যতে এই ধরণের ‘হিট ওয়েভ’ বা তাপপ্রবাহ নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়াবে।