স্মৃতি মন্ধনার পর তিনিই টপ স্কোরার! হুইলচেয়ারে বসে সেলিব্রেশন করা প্রতীকা রাওয়াল শেষমেশ পেলেন তাঁর প্রাপ্য সম্মান

মহিলা বিশ্বকাপে (Women’s World Cup) দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সত্ত্বেও চোটের কারণে টুর্নামেন্টের শেষ ভাগ থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন তিনি। ছয় ম্যাচে ৩০৮ রান করে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হলেও আইসিসির নিয়মের কারণে তাঁর গলায় ওঠেনি বিশ্বজয়ের স্মারক। অবশেষে, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের (Jay Shah) ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে সেই আক্ষেপ দূর হলো। ভারতীয় ওপেনার প্রতীকা রাওয়াল (Pratika Rawal) হাতে পেলেন তাঁর বহু আকাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ পদক।
কী ঘটেছিল?
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ফিল্ডিং করার সময় হাঁটু এবং গোড়ালিতে মারাত্মক চোট পান প্রতীকা। এই চোটই তাঁর সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলার স্বপ্ন ভেঙে দেয়। তাঁর পরিবর্তে দলে সুযোগ পান শেফালি বর্মা। নিয়মানুসারে, ফাইনালের ১৫ সদস্যের দলে না থাকায় বাকি সতীর্থরা পদক পেলেও বঞ্চিত থাকেন প্রতীকা। হুইলচেয়ারে বসে দলের সঙ্গে সেলিব্রেশন করতে হলেও এই তারকা ক্রিকেটারের মনে আক্ষেপ ছিল।
পদক পেয়ে উচ্ছ্বসিত প্রতীকা
সংবাদসংস্থা আইএএনএস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতীকা জানান, অবশেষে তিনি তাঁর প্রাপ্য স্মারকটি হাতে পেয়েছেন।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: স্মারক পেয়ে উচ্ছ্বসিত এই ব্যাটার বলেন, “অবশেষে আমি স্মারক হাতে পেয়েছি। জয় শাহ স্যার আমার স্মারকের জন্য আইসিসি’কে অনুরোধ করেছিলেন। তাঁর কারণেই আমি এটা শেষমেশ হাতে পেলাম। তাই ধন্যবাদ তাঁকে।”
দলের প্রতি ভালোবাসা: তিনি তাঁর সাপোর্ট স্টাফ এবং পুরো দলকেও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “টিমের শরিক হওয়ায় ওরাই আমার জন্য এই স্মারকের বন্দোবস্ত করে দিয়েছে।”
অসাধারণ পরিসংখ্যান ও প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য
প্রতীকা রাওয়াল টুর্নামেন্টের ছয়টি ইনিংসে একটি সেঞ্চুরি এবং একটি হাফ-সেঞ্চুরি সহ মোট ৩০৮ রান সংগ্রহ করেন। তিনি স্মৃতি মন্ধনার (৪৩৪) পর ভারতীয় হিসেবে দ্বিতীয় সর্বাধিক এবং সার্বিকভাবে টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন।
চোটের কারণে হুইলচেয়ারে থাকা সত্ত্বেও তিনি কোচ ও সতীর্থদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতে অংশ নেন। নয়াদিল্লির বাসভবনে চোটগ্রস্ত এই ভারতীয় ব্যাটারের হাতে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে মিষ্টি তুলে দিয়েছিলেন, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল।