সংসদের উচ্চকক্ষে তুমুল হট্টগোল! বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরাসরি গণতন্ত্র হত্যার অভিযোগ তুললেন জেপি নাড্ডা

সংসদের বাদল অধিবেশনে হাঙ্গামা কিছুতেই থামার নাম নিচ্ছে না। রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)-র বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্যসভার নেতা জেপি নাড্ডা। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সুরে বলেছেন যে, বিরোধী দলের সাংসদদের বর্তমান রাজনৈতিক আচরণ অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন। সংসদের অন্দরে যেভাবে নিয়ম ভেঙে গণতন্ত্রের মূল কাঠামোকে আক্রমণ করা হচ্ছে, তা দেশবাসীর সামনে একদম স্পষ্ট। সংসদীয় প্রোটোকল ও ঐতিহ্যকে সম্পূর্ণ জলাঞ্জলি দিয়ে বিরোধী দলগুলি লাগাতার রাজনৈতিক ফায়দা তোলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। অথচ এর বিপরীতে কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় এর আগেই দেশবাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, দেশের স্বার্থে যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে খোঁলাখুলি আলোচনায় বসতে সরকার সর্বদাতে প্রস্তুত রয়েছে।

বিতর্কিত NEET পেপার লিক কাণ্ড এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বলতে গিয়ে জেপি নাড্ডা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান এনডিএ সরকার এই গুরুতর বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ বিতর্কের জন্য পুরোপুরি তৈরি রয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গঠিত এই সরকার প্রতিটি স্তরে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করে চলেছে। এটি এমন একটি জনকল্যাণমুখী সরকার, যা কেবল সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার লক্ষ্যেই দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। সেই কারণেই বিরোধীদের এই ধরনের জনবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিরোধীদের আচরণ দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তারা সংসদীয় গণতন্ত্র বা এর পবিত্র মূল্যবোধে বিন্দুমাত্র বিশ্বাস রাখেনি। এর আগে রাজ্যসভায় NEET UG ২০২৬-এর পেপার লিক সংক্রান্ত স্পর্শকাতর বিষয়টি উত্থাপন করতে গিয়ে কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়गे দাবি তুলেছিলেন যে, এই বিষয়ে যদি সত্যিকারের কোনো নিরপেক্ষ আলোচনা করতে হয়, তবে সবার আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে। খাড়গের মতে, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত সংসদে এই বিষয়ে কোনোভাবেই নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু আলোচনা হতে পারে না।

অন্যদিকে, এই পুরো রাজনৈতিক তরজায় সরকারের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট করে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেছেন যে, তিনি সমগ্র সরকারের পক্ষ থেকে নিজের বক্তব্য রাখছেন। বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে, দেশের যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থের বিষয়ে আলোচনার দরজা খোলা আছে। এমনকি NEET পরীক্ষার পেপার লিক সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর ইস্যুতেও সরকার শুরু থেকেই বিতর্কে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল এবং এখনও সমানভাবে প্রস্তুত রয়েছে। কংগ্রেস সহ বিরোধী শিবিরের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির শীর্ষ নেতাদের কাছেও সরকারের পক্ষ থেকে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে যে, আলোচনায় বসার জন্য প্রশাসন পুরোপুরি উন্মুক্ত। তবে আলোচনার নির্দিষ্ট রূপরেখা ও কার্যপ্রণালী কেমন হবে, তা সবসময়ই মাননীয় সভার সম্মানিত চেয়ারের নির্দেশ এবং সমস্ত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যৌথ বৈঠকের মাধ্যমেই নির্ধারিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। কিন্তু বিরোধীরা যদি আলোচনার টেবিলে আসার পরিবর্তে শুধুমাত্র এড়িয়ে যাওয়ার নতুন নতুন বাহানা খুঁজতে থাকে এবং অযৌক্তিক ও একতরফা শর্ত চাপাতে থাকে, তবে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।

কিরেণ রিজিজু আরও অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেছেন যে, দেশের তরুণ সমাজ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার স্বার্থেই সরকার NEET পরীক্ষা এবং তার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নিতে বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না। দেশের সাধারণ মানুষকে এটা পরিষ্কারভাবে জানানো সরকারের নৈতিক দায়িত্ব যে, এই সংকট নিরসনে কেন্দ্র কী কী কঠোর ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মাননীয় চেয়ারের পক্ষ থেকে যখনই সময় এবং সুযোগ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে, তখনই সরকার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিতর্কের মুখোমুখি হতে ১০০ শতাংশ প্রস্তুত রয়েছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty