কলা চাষেই মিলবে লাখ লাখ টাকার সরকারি অনুদান! কৃষকদের আর্থিক স্বাবলম্বী করতে বড় পদক্ষেপ সরকারের

দেশের কৃষি অর্থনীতির মানচিত্র বদলাতে এবং গ্রামীণ এলাকার অন্নদাতাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে রাজ্য সরকারগুলোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারও নানান ধরনের লাভজনক উদ্যানপালন প্রকল্প রূপায়ণ করে চলেছে। বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলার বহু প্রগতিশীল কৃষক প্রথাগত চাষাবাদের গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লাভজনক শাকসবজি ও ফল চাষের দিকে ঝুঁকছেন। এই বাণিজ্যিক ফসলগুলোর মধ্যে কলা অন্যতম এবং অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল, যা দেশের বিভিন্ন এলাকার বিশাল জমিতে ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়ে থাকে। চাষিদের কলা উৎপাদনে আরও বেশি করে উৎসাহিত করতে এবং উৎপাদন খরচ কমাতে সংশ্লিষ্ট উদ্যানপালন বিভাগ বেশ কিছু যুগান্তকারী প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর হাত ধরে রাজ্যের কলা চাষিরা তাদের নিজস্ব কৃষিজমিতে করা মোট বিনিয়োগের ওপর ভিত্তি করে এককালীন লক্ষ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সরকারি অনুদান পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
কৃষকদের বাণিজ্যিক কলা চাষে উৎসাহিত করতে সরকার আর্থিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে একাধিক বিশেষ প্রকল্প চালু করেছে। যেমন—মিশন ফর ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অফ হর্টিকালচার (MIDH) প্রকল্পের অধীনে, দেশের আগ্রহী কৃষকরা জাতীয় উদ্যানপালন মিশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের উদ্যানপালন বিভাগ থেকে প্রতি হেক্টর জমিতে চাষের জন্য সর্বোচ্চ ৭০,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক অনুদান লাভ করতে পারেন। জেলা উদ্যানপালন দফতরের দেওয়া প্রাক্কলন অনুযায়ী, সাধারণত প্রতি এক হেক্টর জমিতে কলা চাষ করতে আনুমানিক প্রায় ১.৭৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে থাকে। এই মোট খরচের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে কৃষকরা তাঁদের নিজ নিজ জমিতে প্রায় ৩,০৮৬টি উন্নত মানের কলার চারা রোপণ করে এই বিশেষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি উপভোগ করতে পারেন।
জেলা উদ্যানপালন আধিকারিক হরিশঙ্কর রাম সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত জানিয়ে বলেছেন যে, উদ্যানপালন বিভাগের এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের সাধারণ কলাচাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন। এই প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, সঠিক সময়ে চারা রোপণের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রথম কিস্তি হিসেবে কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৪২,০০০ টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর গাছের যথাযথ পরিচর্যা, নিয়মিত দেখভাল এবং উদ্ভিদের সন্তোষজনক বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য ভালোভাবে যাচাই করার পরই বাকি ২৮,০০০ টাকা সরাসরি বেনিফিশিয়ারি ট্রান্সফার বা ডিবিটি (DBT)-র মাধ্যমে কৃষকের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করে দেওয়া হয়।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষকরা যদি প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ফসলের যত্ন নেন এবং কলা চাষে আধুনিক রোগবালাই ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে গ্রহণ করেন, তবে তাঁরা এই চাষ থেকে প্রতি হেক্টর জমিতে খুব সহজেই ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিট লাভ ঘরে তুলতে পারেন। এই লাভজনক প্রকল্পের সুবিধা পেতে ইচ্ছুক কৃষকরা দেরি না করে উদ্যানপালন দপ্তরের অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে খুব সহজেই অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। বিকল্প হিসেবে, তাঁরা প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্রসহ সরাসরি জেলা উদ্যানপালন দপ্তরে যোগাযোগ করেও আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন।