নজিরবিহীন শর্তে বৈঠকে বসছে সরকার ও সিজিপি! জন্তর-মন্তর বা নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনার দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা

দেশজুড়ে বহুল আলোচিত এবং বিতর্কিত এনইইটি (NEET) পরীক্ষার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজনৈতিক পারদ চড়ে রয়েছে। এই তীব্র বিক্ষোভ ও অসন্তোষের মাঝেই কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে ‘ককরোজ জনতা পার্টি’ (CJP)-র শীর্ষ নেতাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ করার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে কেন্দ্র সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসে বরফ গলানোর আরও একটি নতুন প্রচেষ্টা চালাতে চলেছে। এর ঠিক দুদিন আগেই সিজিপি প্রতিনিধিরা জেপি নড্ডার সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠক সেরে তাঁদের বিভিন্ন দাবিসংবলিত একটি দীর্ঘ তালিকা বা চার্টার জমা দিয়েছিলেন। তবে এই নির্ধারিত ও প্রস্তাবিত বৈঠকটি শুরু হওয়ার আগেই সিজিপি নেতা সৌরভ দাস অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁদের দল বা সংগঠনের প্রতিনিধিরা কোনো অবস্থাতেই মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত কার্যালয় কিংবা সরকারি বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করবেন না।

এই প্রসঙ্গে সিজিপি নেতা সৌরভ দাস স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “সরকার বা মন্ত্রীরা আমাদের ডেকেছেন ঠিকই, কিন্তু আমরা তাঁদের নিজস্ব অফিসে বা বাড়িতে দেখা করতে যাচ্ছি না। আলোচনা যা হওয়ার তা হয় জনবহুল যন্তর মন্তর চত্বরে হবে, অথবা কোনো নিরপেক্ষ জায়গায় হতে হবে। আমরা প্রথম দিন থেকেই আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধানে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি। এমনকি তাঁরা পরশু দিনও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। আমরা সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করি যে তাঁরা দেশের মন্ত্রী, তাই তাঁদের নিজস্ব নিরাপত্তার কিছু প্রোটোকল বা সমস্যা থাকতে পারে। তবে সেই কথা মাথায় রেখে আমরা সাংবিধানিক বিধি মেনে কনস্টিটিউশন ক্লাব অফ ইন্ডিয়া (Constitution Club of India)—র মতো কোনো নিরপেক্ষ স্থানেও একে অপরের মুখোমুখি বসতে পারি।” এদিকে, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক প্রাক্কালে বুধবার সিজিপি তাদের আগের সমস্ত দাবিদাওয়ার পরিধি আরও বাড়িয়ে একটি নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে। সংগঠনের সরকারি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক আন্দোলন চলাকালীন গত ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে যাতে কোনো ধরনের পুলিশি এফআইআর (FIR) বা কঠোর আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, সেটিও এখন তাদের অন্যতম প্রধান শর্ত।

আশুতোষ রাঙ্কা আরও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন যে, তাঁদের চলমান এই সামগ্রিক আন্দোলনের মোট চার দফা জোরালো দাবি রয়েছে। প্রথমত, বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী ও নেতা সোনম ওয়াংচুককে অবিলম্বে নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে; দ্বিতীয়ত, বিতর্কিত এই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে তাঁর পদ থেকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে; তৃতীয়ত, সাম্প্রতিককালে এই ঘটনার জেরে যাঁরা মর্মান্তিকভাবে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, সেই সমস্ত দুর্ভাগ্যজনক মৃতদের শোকস্তব্ধ পরিবারগুলোকে অন্তত ১ কোটি টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; এবং চতুর্থত, গত ২০ জুলাইয়ের শান্তিপূর্ণ গণ-বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সমস্ত প্রতিবাদী মানুষের বিরুদ্ধে রুজু হওয়া বা হতে চলা আইনি মামলা ও কড়া পদক্ষেপগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিতে হবে। অন্য একটি রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে, লোকসভায় বিরোধী পক্ষের লাগাতার চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত সরকার পক্ষ কথিত এনইইটি পেপার লিক ও অনিয়ম নিয়ে সংসদের উভয় কক্ষে বিস্তারিত ও দীর্ঘ বিতর্কে অংশ নিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি প্রকাশ করেছে। ঠিক এর পরেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সোজা পার্লামেন্টে গিয়ে লোকসভার সম্মানিত স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ একান্ত বৈঠক করেন।