ওবিসি সংরক্ষণ মামলায় বিরাট মোড়! হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ, ৬ সপ্তাহের মধ্যে তলব হল হলফনামা!

রাজ্য জুড়ে ওবিসি (OBC Reservation) সংরক্ষণ সংক্রান্ত জটিলতা কাটছেই না। সুপ্রিম কোর্ট থেকে বর্তমান রাজ্য সরকার এই সংক্রান্ত মামলা প্রত্যাহার করে নিলেও কলকাতা হাইকোর্টে মামলার জট এখনও বহাল। শুধু তাই নয়, এই মামলাকে কেন্দ্র করে দায়ের হয়েছে নতুন জনস্বার্থ মামলাও। বুধবার এই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আগামী ছ’সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত পক্ষকে হলফনামা পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে। এর পরেই এই মামলার বিস্তারিত ও চূড়ান্ত শুনানি শুরু হবে।

হাইকোর্টে কী উঠল শুনানিতে?

  • ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ: বুধবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। দুই পক্ষের সওয়াল শোনার পর আদালত আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

  • মামলাকারীর যুক্তি: মামলার অন্যতম পক্ষের আইনজীবী কিশোর দত্ত সওয়াল করেন যে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটলেই আগের সরকারের সমস্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত রাতারাতি বাতিল করে দেওয়া যায় না। বিগত সরকারের সময়ে হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই নতুন করে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের চাকরি, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলি জড়িত রয়েছে। হঠাৎ এই সংরক্ষণ বাতিল করলে বহু জটিলতা তৈরি হবে।

  • রাজ্যের বক্তব্য: শুনানিকালে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান যে, এই মামলার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশদ জানাতে তাঁর কিছুটা সময় প্রয়োজন। উভয় পক্ষের এই আবেদন বিবেচনা করেই আদালত হলফনামা জমার সময়সীমা বেঁধে দেয়।

মামলার প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, অতীতে প্রকৃত প্রাপকদের বঞ্চিত করে ধর্মের ভিত্তিতে ওবিসি সংরক্ষণের অভিযোগ তুলে অমল চন্দ্র দাস নামের এক ব্যক্তি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। যার ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ২২ মে আদালত বিগত তৃণমূল সরকারের ৭৬টি সম্প্রদায়কে সংরক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত খারিজ করে নতুন সমীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিল। পরবর্তীতে গত ১৮ মে বর্তমান সরকার নতুন করে ৭৪টি সম্প্রদায়কে বাদ দিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এই নতুন বিজ্ঞপ্তি এবং ওবিসি তালিকা থেকে বাদ পড়া জনগোষ্ঠীকে নিয়ে বর্তমান আইনি লড়াই নতুন মাত্রা নিয়েছে। মিজানুল কবির নামে এক ব্যক্তি এই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন করে জনস্বার্থ মামলাও দায়ের করেছেন।