শ্রম আইন কি ফিরছে প্রাচীন বর্ণভিত্তিক শাসনে? মনুর আদর্শে শ্রম শাসনের নৈতিক ভিত্তি! ‘সংবিধানের আত্মার পরিপন্থী’ বলে ফুঁসছে কংগ্রেস

নরেন্দ্র মোদি সরকারের নতুন শ্রমনীতি খসড়া ‘শ্রম শক্তি নীতি ২০২৫’ ঘিরে ভারতে এক তীব্র আদর্শিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই নীতির খসড়ায় মনুস্মৃতির উল্লেখ থাকায় কংগ্রেস সরাসরি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ভারতীয় শ্রমনীতিকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর আদর্শে ঢেলে সাজানোর অভিযোগ এনেছে।

কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেছেন, এই নীতি ভারতের সংবিধানের আত্মা ও মূল চেতনার পরিপন্থী।

নীতিপত্রে মনুস্মৃতির উল্লেখ, বিতর্কের সূত্রপাত
চলতি অক্টোবরে জনমত সংগ্রহের জন্য প্রকাশিত খসড়া নীতিপত্রের এক অংশে বলা হয়েছে:

📌 নীতিপত্রের বক্তব্য: “মনুস্মৃতিতে আধুনিক শ্রম আইনের বহু শতাব্দী আগেই ভারতের সভ্যতাগত পরিসরে শ্রম শাসনের নৈতিক ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছিল।”

এই বক্তব্যকেই কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ ‘গভীরভাবে প্রতিক্রিয়াশীল’ বলে উল্লেখ করেছেন।

রমেশের কথায়, “মনুস্মৃতির নীতিতে ফিরে যাওয়া মানে সমতা, ন্যায় ও ধর্মনিরপেক্ষতার মূল চেতনার প্রতি আঘাত হানা।” তিনি আরও বলেন, মনুর আদর্শে ফেরা আসলে আরএসএস-এর বহুদিনের স্বপ্নপূরণ, যারা স্বাধীন ভারতের সংবিধানের বিরুদ্ধে ছিল।

‘বর্ণভিত্তিক ন্যায়’-এর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে দেশকে?
সরকার যদিও এই নীতিকে ভারতের শ্রমশাসন ব্যবস্থাকে “সভ্যতাগত জ্ঞানে অনুপ্রাণিত” করার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করছে, কিন্তু সমালোচকরা এর মধ্যে বর্ণভিত্তিক শ্রমবিভাগকে পুনরুজ্জীবিত করার বিপজ্জনক প্রবণতা দেখতে পাচ্ছেন।

রমেশ স্পষ্ট বলেন, “মনুর নামে অসমতাকে পবিত্র করার চেষ্টা চলছে। এটি সংবিধানের স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের মূল নীতির প্রতি এক প্রকার উপহাস।”

শ্রমিক সংগঠন ও সমাজ সংস্কারকরাও বলছেন, মনুস্মৃতির মতো বিতর্কিত পাঠ্য থেকে অনুপ্রাণিত নীতি গ্রহণ করা মানে সংবিধানিক সমতার যাত্রাপথে কয়েক দশকের অগ্রগতিকে অস্বীকার করা।

রাজনৈতিক সময়কাল ও বৃহত্তর লড়াই
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে এবং বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই নীতি সামনে আনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অনেকে মনে করছেন, এর মাধ্যমে সরকার ‘সভ্যতাগত শ্রমনৈতিকতা’-কে অর্থনৈতিক দর্শনের মূল স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

যদিও নীতির খসড়া জনমতের জন্য ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত খোলা ছিল, তবুও এই বিতর্ক একটি প্রশাসনিক নথির গণ্ডি ছাড়িয়ে ভারতের সাংবিধানিক আত্মা ও রাষ্ট্রের চরিত্র নিয়ে এক বৃহত্তর আদর্শিক লড়াইয়ের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

অনেকের আশঙ্কা, যদি এই নীতি বর্তমান আকারেই কার্যকর হয়, তবে ভারতের শ্রমনীতি ‘সমতা ও মর্যাদা’-র পথ থেকে সরে গিয়ে এক ‘বর্ণভিত্তিক ন্যায়’-এর দিকে দেশকে ঠেলে দেবে। সরকারি পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, এই নীতি ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক সহজে থামছে না।