‘নিজেই জনপ্রতিনিধি, তিনিই BLO!’ মানিকচকে মতিউল আনসারিকে নিয়ে তুমুল শোরগোল, নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল বিরোধীরা

যিনি এলাকার বর্তমান শাসকদলের জনপ্রতিনিধি, তাঁকেই সেই এলাকার বুথ লেভেল অফিসার (BLO) হিসেবে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন! মালদহের মানিকচক বিধানসভা কেন্দ্রের এই আজব ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনীতিতে চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিরোধী দলগুলি একযোগে অভিযোগ তুলেছে, এতে নির্বাচনী কাজের নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে না।
ঠিক কী ঘটেছে মানিকচকে?
ঘটনাটি মানিকচক বিধানসভা কেন্দ্রের ১৫৬ নম্বর বুথের, যা এনায়েতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আওতাধীন।
নিয়োগ: ওই বুথের বিএলও হিসেবে কমিশন নিয়োগ করেছে পেশায় প্রাথমিক শিক্ষক মতিউল আনসারিকে।
বিতর্ক: মতিউল আনসারি আবার ওই ১৫৬ নম্বর বুথেরই তৃণমূলের প্রতীকে জেতা নির্বাচিত গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য!
এই ঘটনা কমিশনের সেই নির্দেশিকাকে ঘিরে ধোঁয়াশা তৈরি করেছে, যেখানে বলা হয়েছিল—’কোনও জনপ্রতিনিধিকে বিএলও হিসাবে নিয়োগ করা যাবে না।’
বিরোধী দলের কড়া আক্রমণ
বিষয়টি জানতে পেরেই সিপিএম, কংগ্রেস এবং বিজেপি একযোগে ওই বিএলও-কে অপসারণের দাবি জানিয়েছে।
সিপিএমের অভিযোগ: সিপিএমের মানিকচক বিধানসভা কেন্দ্রের ইনচার্জ দেবজ্যোতি সিনহা বিডিও অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বলেছেন, “তিনি একজন জনপ্রতিনিধি। তিনি বিএলও হিসাবে কাজ করলে কাজের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আমরা তাঁকে সরিয়ে দ্রুত নতুন বিএলও নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।”
কংগ্রেসের তোপ: কংগ্রেসের জেলা সভাপতি ইশা খান চৌধুরী এই ঘটনায় বিস্মিত। তিনি বলেন, “তিনি নিজের দলের পক্ষে কাজ করবেন। কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁকে বিএলও করা হয়েছে। আমরা দ্রুত জেলা নির্বাচন আধিকারিক-সহ নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করব।”
বিজেপির নিশানায় তৃণমূল: বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ করেন, “জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে তৃণমূল প্রভাবিত অস্থায়ী কর্মীদের নাম বিএলও তালিকায় ঢুকিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া এরাজ্যে শুরু হয়েছে। এমন বিএলও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন না। আমরা এঁর বিরুদ্ধেও নির্বাচন কমিশনকে জানাব।”
বিএলও এবং তৃণমূল নেতৃত্বের জবাব
বিএলও মতিউল আনসারি তাঁর স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে জানান, তিনি ২০১১ সাল থেকে বিএলও-এর দায়িত্ব পালন করছেন এবং ২০১৪ সালে যখন তাঁকে ১৫৬ নম্বর বুথের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন তিনি পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন না। তিনি দাবি করেন, “নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ না-করলে ব্লক প্রশাসন আমাকে এই দায়িত্বে রাখত না।”
তবে, তৃণমূল পরিচালিত মানিকচক পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী পিঙ্কি মণ্ডল এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি জানান, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এক্ষেত্রে যা করণীয় বিডিও-ই করবেন।”
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান
যদিও জেলাস্তরের নির্বাচনী আধিকারিকরা প্রকাশ্যে কিছু বলতে রাজি হননি, তবে নির্বাচন কমিশনের এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, “এমন ঘটনা নিয়ে কোনও অভিযোগ পেলেই আমরা তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করি। এর আগেও এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে। এক্ষেত্রেও যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিয়ম লঙ্ঘন করে একজন জনপ্রতিনিধি কীভাবে বিএলও তালিকায় ঢুকলেন, তা নিয়ে নাগরিক মহলেও প্রশ্ন উঠেছে।