২০২৬-এর মেগা ফাইনালে বাংলা এখন গেরুয়া। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে প্রথমবার সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। কিন্তু এই ঐতিহাসিক জয়ের কারিগর শুধু কি রাজ্যের নেতারাই? বিজেপির অন্দরমহল বলছে অন্য কথা। বাংলার এই নজিরবিহীন সাফল্যের নেপথ্যে ‘নীরব গেমচেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করেছে রাজস্থান বিজেপির এক ঝানু টিম। মরুঝড়ের দাপটে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের মজবুত দুর্গ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব আর অমিত শাহের সুক্ষ্ম পাটিগণিত তো ছিলই, কিন্তু মাটির লড়াইয়ে রাজস্থানের নেতাদের সক্রিয়তা এবার ছিল চোখে পড়ার মতো। খাতায়-কলমে তৈরি হওয়া দিল্লির প্ল্যানকে বাংলার বুথ স্তরে বাস্তবায়িত করেছেন এই নেতারাই।
ভূপেন্দ্র-বনসল জুটি: প্রচারের দুই কান্ডারি
নির্বাচনী ময়দানে বিজেপির তুরুপের তাস ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। গোটা প্রচারের দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। অন্যদিকে, জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা রাজ্য ‘প্রভারি’ সুনীল বনসল অত্যন্ত নিপুণভাবে সংগঠনকে চালনা করেছেন। এই দুই নেতার রণকৌশল যে ১০০-তে ১০০ নম্বর পেয়ে পাশ করেছে, তার প্রমাণ সোমবারের ইভিএম-এর রায়।
মমতার গড়ে ‘রাঠোর’ ম্যাজিক ও উত্তরবঙ্গে শেখাওয়াত
খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরকে পাখির চোখ করেছিল বিজেপি। সেখানে মাসের পর মাস পড়েছিলেন রাজেন্দ্র রাঠোর এবং তাঁর দল। তাঁদের কৌশলেই মমতার নিজের পাড়ায় ভাঙন ধরাতে সফল হয়েছে পদ্ম শিবির। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে বিজেপির দুর্গ আরও মজবুত করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত এবং কৈলাশ চৌধুরী।
ফলাফল হাতেনাতে— উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের মোট ২৮টি আসনের মধ্যে ২৭টিতেই জিতেছে বিজেপি। কৈলাশ চৌধুরী দীর্ঘ ৬ মাস এবং শেখাওয়াত টানা ১০ দিন সভা করে উত্তরবঙ্গকে কার্যত ‘তৃণমূল-মুক্ত’ করেছেন।
মোদী-ম্যাজিকের নেপথ্যে অরুণ-অশোক
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রেকর্ড ২১টি নির্বাচনী সভা ও রোড শো-র গুরুদায়িত্ব ছিল রাজ্য অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান অরুণ চতুর্বেদীর ওপর। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি অশোক পরনামি। অন্যদিকে, সি.পি জোশী ও তাঁর টিমের নিখুঁত সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সভায় উপচে পড়া ভিড় আছড়ে পড়েছিল বাংলার রাস্তায়।
শহর কলকাতায় প্রথমবার ফুটল পদ্ম
তৃণমূলের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতাতেও ধস নামিয়েছেন রাজস্থানি নেতারা।
উত্তর কলকাতা: অতুল ভানসালি ও শংকর সিং রাজপুরোহিতের স্ট্র্যাটেজিতে এই প্রথম ৭টির মধ্যে ৪টি আসনে জিতেছে বিজেপি।
দক্ষিণ কলকাতা: মোতিলাল মীনার নেতৃত্বে এই প্রথমবার একগুচ্ছ আসনে জয় পেয়েছে দল।
আসানসোল: বিধায়ক জিতেন্দ্র গোথওয়ালের ম্যাজিকে আসানসোলের ৭টি আসনেই ফুটেছে পদ্ম, যেখানে গতবার ছিল মাত্র ২টি আসন।
দমদম থেকে যাদবপুর— সর্বত্রই রাজস্থানি নেতাদের এই ‘সাইলেন্ট অপারেশন’ তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ককে তছনছ করে দিয়েছে। দিল্লির প্ল্যান আর রাজস্থানের লড়াকু মেজাজ— এই দুইয়ের মিশেলেই আজ বদলে গেল বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র।





