সরকার গড়েই ‘অপারেশন বদল’! মমতার কবিতা থেকে আজান ও রাস্তার নাম—বিস্ফোরক তথাগত রায়

৪ মে পশ্চিমবঙ্গ দেখেছিল এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। ভবানীপুরের ঘরের মাঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজয় এবং গেরুয়া শিবিরের উত্থান রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিয়েছে। ৫ মে-র নতুন সকালে সেই আগুনেই ঘি ঢাললেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায়। ফেসবুকে একটি দীর্ঘ এবং বিস্ফোরক পোস্টের মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, আগামী দিনে বিজেপির শাসনে বাংলার রূপরেখা কেমন হতে চলেছে।

তথাগত রায়ের নিশানায় প্রথমেই রয়েছে গত ১৫ বছরের ‘অপশাসন’। তাঁর দাবি, এই দীর্ঘ সময়ে রাজ্যে মাদ্রাসার সংখ্যা ও প্রভাব অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা কিছু কবিতা, যা তিনি ‘অপসংস্কৃতি’ বলে অভিহিত করেছেন (যেমন: এপাং ওপাং ঝপাং), স্কুল পাঠ্যবই থেকে অবিলম্বে সরানোর দাবি তুলেছেন তিনি। তথাগতবাবুর মতে, এই ধরনের লেখা শিশুদের শিক্ষার মান নষ্ট করছে।

বিজেপি সরকার গড়লে কী কী পরিবর্তন আসতে পারে, তার একটি তালিকাও দিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রথম দাবি, কলকাতার ময়দানের ঝোপের আড়ালে পড়ে থাকা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিটি সরিয়ে এনে স্টেটসম্যান হাউসের সামনে তাঁর বাবার মূর্তির পাশে সসম্মানে বসাতে হবে। পাশাপাশি ‘বিশ্ববাংলা’ নামটি পরিহার করে মাদ্রাসায় সরকারি সাহায্য বন্ধ করার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে তিনি বাম আমলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের একটি মন্তব্য মনে করিয়ে দিয়েছেন, যেখানে বুদ্ধদেববাবু স্বীকার করেছিলেন যে কিছু মাদ্রাসা দেশবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। তথাগত রায়ের সাফ কথা, এ রাজ্যে সরকারি টাকায় দেশবিরোধী প্রচার চলতে দেওয়া যাবে না।

নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও চরম পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। লেনিন সরণি, কার্ল মার্কস সরণি বা হো চি মিন সরণির মতো রাস্তার নাম বদলে স্বামী প্রণবানন্দ, বীর সাভারকার বা সর্দার প্যাটেলের নামে করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এমনকি বারাসাতের তিতুমীর বাসস্ট্যান্ডের নাম বদলে কাজী আব্দুল ওদুদের নামে করার দাবি তুলেছেন তিনি। তাঁর নিশানায় রয়েছে ভোরে মসজিদের আজান এবং ‘সাম্প্রদায়িক’ নেতাদের নামে থাকা রাস্তাঘাটও।

তথাগত রায়ের সবথেকে বড় অভিযোগটি ছিল সোনা পাচার নিয়ে। তিনি দাবি করেছেন, কলকাতা বিমানবন্দরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে যে ২ কেজি সোনা উদ্ধার করেছিল এবং যা পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে ‘ছিনিয়ে’ নেওয়া হয়েছিল, সেই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করতে হবে। এই চুরির ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন তিনি। এখন দেখার, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর তথাগত রায়ের এই বিস্ফোরক দাবিগুলো কতটা বাস্তবায়িত হয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy