১৫ বছরের তৃণমূল রাজত্বের অবসান! ‘ভোটচুরির’ বিস্ফোরক অভিযোগে সরব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি!

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক মহাপ্রলয় ঘটে গেল। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে নীল-সাদা বাড়ি দখল করল গেরুয়া শিবির। ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠল গোটা পশ্চিমবঙ্গ। বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ২০৬টি আসনে বিপুল জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। অন্যদিকে, গত তিনবারের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস থমকে গেছে মাত্র ৮০টি আসনে। কংগ্রেসের ঝুলিতে এসেছে মাত্র ২টি আসন। এই জয়ের ফলে বাংলায় বিজেপির সরকার গঠন এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

বিজেপির জয়ের নেপথ্যে তৃণমূলের ‘পাপ’?
বিজেপির এই অভাবনীয় জয়ের জন্য সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তাঁর মতে, তৃণমূলের দুর্নীতি আর অপশাসনই বিজেপির জন্য লাল কার্পেট পেতে দিয়েছিল। পরাজয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “তৃণমূলের ১৫ বছরের রাজত্বে সীমাহীন দুর্নীতি, রাজনৈতিক হিংসা আর নারী নির্যাতন চরমে পৌঁছেছিল। বিশেষ করে আরজি কর-কাণ্ডের মতো নৃশংস অপরাধ এবং সেই অপরাধীদের আড়াল করার নির্লজ্জ প্রচেষ্টা জনগণের মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। মানুষের সেই পুঞ্জীভূত ঘৃণা আর ক্ষোভই ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে।” তাঁর দাবি, কর্মসংস্থানের অভাব আর অনুন্নয়ন বাংলার মানুষকে তৃণমূলের বিমুখ করে তুলেছে।

ভোটচুরির গুরুতর অভিযোগ: নিশানায় নির্বাচন কমিশন
বিজেপির এই বিপুল জয়কে স্বাভাবিকভাবে দেখতে নারাজ শুভঙ্কর সরকার। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ তুলেছেন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দাবি, “নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই পক্ষপাতদুষ্ট ছিল। এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে তথাকথিত অসঙ্গতির অজুহাতে। এখনও ৩৪ লক্ষের বেশি আপিল ট্রাইব্যুনালে ঝুলে রয়েছে। অসংখ্য বৈধ ভোটার ভোট দিতে পারেননি। মূলত বৈধ ভোটারদের নাম কেটে দিয়ে বিজেপির জয়ের পথ চওড়া করা হয়েছে।”

কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ ও নতুন লড়াই
দীর্ঘ দুই দশক পর কংগ্রেস রাজ্যের প্রায় সবকটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। ফরাক্কায় মোতাব শেখ এবং রানিনগর কেন্দ্রে জুলফিকার আলির জয়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শুভঙ্কর বাবু। তবে দলের প্রাপ্ত ভোটের হার আশানুরূপ না হওয়ায় তিনি পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি সাফ জানান, “জনগণের রায়কে মাথা পেতে নিয়ে কংগ্রেস বিধানসভার ভিতরে দায়িত্বশীল বিরোধী এবং বাইরে জনস্বার্থের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করবে। রাজ্যের প্রকৃত উন্নয়নে কংগ্রেসই যে একমাত্র বিকল্প, তা প্রমাণ করতে আমরা দায়বদ্ধ।”