শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকে ২০ বিদ্রোহী সাংসদ, কোন গোপন রণকৌশল সাজাচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী?

তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদদের নিয়ে আজ দিল্লির বঙ্গভবনে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার পর এই প্রথম বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন তিনি। এই মেগা বৈঠকে অন্তত ২০ জন সাংসদ উপস্থিত থাকতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

বৈঠকের মূল এজেন্ডা: উন্নয়ন ও পুনর্বাসন

ইতিমধ্যেই এই বৈঠক নিয়ে মুখ খুলেছেন এনসিপিআই-এর সংসদীয় দলের নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আজকের বৈঠকে মূলত দুটি বিষেশ দিক নিয়ে আলোচনা হবে:

  • এলাকার উন্নয়ন: নিজ নিজ লোকসভা কেন্দ্রের সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ঠিক কীভাবে কাজ করা হবে, তার একটি রূপরেখা তৈরি করা।

  • দলীয় কর্মীদের পুনর্বাসন: বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যজুড়ে যে সমস্ত কর্মীরা ঘরছাড়া রয়েছেন, তাঁদের নিরাপদে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা।

সুদীপ বাবু পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে এনসিপিআই-এর বিজেপিতে মিশে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপিআই সাংসদরা এনডিএ-র সাপ্তাহিক ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকে অংশ নেওয়ায় কেন্দ্রে শাসক জোটের সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা বহুগুণ বেড়েছে।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও চর্চা

বিধানসভা ভোটের ফলের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একের পর এক নাটকীয় পটপরিবর্তন দেখা গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল থেকে ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন লোকসভা সাংসদ তৃণমূলে ভাঙন ধরিয়ে এনসিপিআই-এ যোগ দেন এবং পরবর্তীতে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএ-র শরিক হয়। যদিও এই সাংসদদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনি পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস, যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্পিকার ওম বিড়লার দপ্তরে বিচারাধীন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আজকের বৈঠক শুধু প্রশাসনিক বা উন্নয়নমূলক কাজের গণ্ডিতে আটকে থাকবে না; বরং আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ এবং দিল্লির রাজনৈতিক সমীকরণে এটি বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো রাজনৈতিক অঙ্ক তৈরি হয় কিনা, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।