শুভর উত্থানের আসল কারিগর যুবরাজ, কিন্তু বাবার কোচিং স্টাইল নিয়ে কেন মুখ খুললেন বিশ্বজয়ী তারকা?

২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১১ ওয়ান ডে বিশ্বকাপে ভারতের জয়ের অন্যতম নায়ক, প্রাক্তন অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংহ (Yuvraj Singh) বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেটের একঝাঁক তরুণ প্রতিভাকে তৈরি করছেন। তবে এবার ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর কোচিং স্টাইল এবং বাবা যোগরাজ সিংহের (Yograj Singh) কঠোর অনুশাসন প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন তিনি।

সম্প্রতি পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুবরাজ স্পষ্ট জানান যে তাঁর ও তাঁর বাবার কোচিং করানোর ধরনে বিস্তর ফারাক রয়েছে।

কোচিং স্টাইল নিয়ে যুবরাজের ভাবনা
শুভমন গিল (Shubman Gill), অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma), প্রভসিমরণ সিংহ এবং প্রিয়াংশ আর্য-এর মতো উঠতি তারকারা বর্তমানে যুবরাজের তত্ত্বাবধানে নিজেদের ঘষেমেজে তৈরি করছেন। তথাকথিত কোচিং সার্টিফিকেট না থাকলেও, এই ক্রিকেটারদের সাফল্যে যুবরাজের অবদান অপরিসীম। শুভমন গিল এখন টেস্ট ও ওয়ান ডে ফর্ম্যাটে অধিনায়ক, এবং অভিষেক কুড়ির ফর্ম্যাটে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটার।

যুবরাজ বলেন, “আমার ও আমার বাবার কোচিংয়ের ধরণ একদমই আলাদা। আমি মনে করি যখন একজনকে কোচিং করাচ্ছি আমি, তখন আমাকে তাঁদের মানসিকতাটা বুঝতে হবে। নিজের বক্তব্য বা ধারণা চাপিয়ে দেওয়া একদমই উচিৎ নয়।”

তিনি মনে করেন, যাদের কোচিং করানো হচ্ছে, তাদের বক্তব্য যেমন শোনা উচিৎ, তেমনই নিজের মতামতও রাখা উচিৎ। যুবরাজের মতে, একজন ১৯ বছর বয়সির কোচিং করাতে গেলে এই মানসিক বিষয়গুলো বোঝা জরুরি।

কেরিয়ারের শুরুতে বাবার কঠোরতা
কেরিয়ারের শুরুতে যুবরাজকে তাঁর বাবা যোগরাজ সিংহের কড়া অনুশাসনের মধ্যে থাকতে হয়েছে। ২০০০ সালে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন যুবি। সেই কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরে প্রাক্তন বাঁহাতি অলরাউন্ডার বলেন, “যখন আমার ১৯ বছর বয়স ছিল, তখন আমাকে কী ধরণের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে লড়তে হয়েছিল, কারও ধারণা নেই। এখন তাই ১৯-২০ বছরের কাউকে দেখি, তাদের মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করি।”

মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন যোগরাজ
যদিও বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য প্রায়শই সমস্যায় পড়া বাবা যোগরাজ সিংহ সম্প্রতি নিজের ভুল স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন। এক পডকাস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে পরিবর্তন এনেছে।

যোগরাজ বলেছিলেন, “পেটে তীব্র ব্যথা হওয়ায় হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। অপারেশন শেষে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম ছিল… এই অভিজ্ঞতার পর অনেক কিছুই বদলে গিয়েছে।” তিনি নিজের অনুশোচনা প্রকাশ করে আবেদন জানান, “আমি যাদের আঘাত করেছি তাদের প্রত্যেকের কাছে আবেদন করছি, তারা আমার পরিবারের হোক বা বাইরের। আমি আমার সন্তান, স্ত্রী, যুবির মা এবং সকলের কাছে ক্ষমা চাইছি।”