সিন্ধু জলচুক্তি বিতর্ক: পাকিস্তানকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি ভারতের, কী বললেন রণধীর জয়সওয়াল?

সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে পাকিস্তানের লাগাতার হুমকি ও প্ররোচনামূলক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থানে অনড় ভারত। সীমান্তে সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের মদত অব্যাহত থাকার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।

ঠিক কী ঘটেছে? সম্প্রতি পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক ভারতের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে হুমকি দেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত সিন্ধু নদের জল আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই প্রসঙ্গে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, “ইসলামাবাদ সেই হাতগুলো কেটে ফেলবে, যারা সিন্ধু নদের জলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে।” এর আগে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারও জলচুক্তি নিয়ে যুদ্ধের প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

ভারতের কড়া জবাব পাকিস্তানের এই অযৌক্তিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সিন্ধু জলচুক্তির বিষয়ে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সুসংগত। তিনি বলেন, “পাকিস্তান ক্রমাগত আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে মদত দিয়ে যাচ্ছে। ভারতের দাবি, পাকিস্তানকে অবশ্যই বিশ্বাসযোগ্য এবং অপরিবর্তনীয়ভাবে এই সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ করতে হবে।” বিদেশ মন্ত্রকের এই বক্তব্য বুঝিয়ে দিয়েছে যে, ভারত তার জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবস্থানের সঙ্গে আপস করতে রাজি নয়।

কেন স্থগিত এই চুক্তি? ২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনার পর থেকেই সিন্ধু জলচুক্তি কার্যত স্থগিত পর্যায়ে রয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, চুক্তিটি এখনও আইনত বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, ভারতের স্পষ্ট বক্তব্য, একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে নিজের নিরাপত্তার খাতিরে এবং সন্ত্রাস দমনে ভারত যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।

আঞ্চলিক নিরাপত্তার উদ্বেগ পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার দাবি করেছেন যে, জলকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান একদিকে আলোচনার টেবিলে দাঁড়িয়ে চুক্তির কথা বলছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সীমান্তে অস্থিরতা বজায় রাখছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, সন্ত্রাস আর বন্ধুত্ব—একসঙ্গে চলতে পারে না।

সীমান্তবর্তী উত্তেজনার আবহে ভারতের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, তা কোথায় গিয়ে থামে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।