সিন্ধু জল নিয়ে পাক মন্ত্রীর ‘হাত কেটে দেওয়ার’ হুমকি! কড়া ভাষায় জবাব দিল ভারত

সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের হুমকির কড়া জবাব দিল ভারত। ইসলামাবাদকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে নয়াদিল্লি জানিয়ে দিল, পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ না করা পর্যন্ত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতই থাকবে। পাকিস্তানের এহেন প্ররোচনামূলক বক্তব্যের মুখে পড়েও ভারত যে নিজের অবস্থানে অনড়, তা শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে আবারও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের হুমকি ও পাল্টা জবাব সম্প্রতি পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ভারতকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, চুক্তির নিয়মের বাইরে পাকিস্তানের প্রাপ্য জলে কেউ হাত দিলে ইসলামাবাদ ‘সেই হাত কেটে দেবে’। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতা উল্লাহ তারারও দাবি করেন, ১৯৬০ সালের এই চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত করা যায় না।

এর পাল্টা হিসেবে শুক্রবার সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। পাকিস্তানের সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদই এই চুক্তি স্থগিত রাখার মূল কারণ। আমরা বারবার পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদে মদত বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

কেন এই কঠোর অবস্থান? পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গিহানার পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা জঙ্গিদের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অতীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বলেছিলেন, “রক্ত আর জল একসঙ্গে বইতে পারে না।” ভারতের স্পষ্ট দাবি, সন্ত্রাসবাদ এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা কোনোভাবেই একসঙ্গে চলতে পারে না।

চুক্তি নিয়ে ভারতের পর্যবেক্ষণ ভারত মনে করে, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সিন্ধু জলচুক্তিটি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। তৎকালীন চুক্তিতে সিন্ধু নদীর পশ্চিমের নদীগুলোর উপর পাকিস্তানকে অত্যধিক অধিকার দেওয়া হয়েছিল, যেখানে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের জলের চাহিদা যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি।

আফগানিস্তান ইস্যুতেও সরব ভারত এদিন বিদেশ মন্ত্রক আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলারও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেন, ভারত আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সমর্থন করে। মানবিক সহায়তা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক যে অটুট রয়েছে, তাও মনে করিয়ে দেয় নয়াদিল্লি।

ভারতের এই অনড় অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে পাকিস্তান যে ক্রমেই কোনঠাসা হয়ে পড়ছে, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল।