দৈনিক লক্ষাধিক যাত্রীর ভিড়ে ঠাসা শিয়ালদহ স্টেশন। কর্মব্যস্ত সময়ে যাত্রীদের নাভিশ্বাস ওঠে সঠিক প্ল্যাটফর্ম খুঁজে বের করতে। অসংখ্য রুট এবং ট্রেনের আনাগোনায় বিভ্রান্তি ছিল নিত্যসঙ্গী। অবশেষে এই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এক বড় পদক্ষেপ নিল শিয়ালদহ ডিভিশনের রেল কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের সুবিধার্থে এবার প্ল্যাটফর্মগুলি নির্দিষ্ট রুটের ট্রেনের জন্য ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি শিয়ালদহ ডিআরএম (ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার) এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই প্ল্যাটফর্ম রি-অ্যালোকেশনের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন। এই নতুন ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো, যাত্রীদের অযথা ছোটাছুটি কমানো এবং স্টেশনের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল করা। রেল সূত্রে জানা গেছে, এই পরিবর্তনের ফলে যাত্রীরা প্ল্যাটফর্মে পৌঁছানোর আগেই জানতে পারবেন তাঁদের নির্দিষ্ট রুটের ট্রেন কোন প্ল্যাটফর্ম থেকে ছাড়বে।
কোন শাখার ট্রেন কোন প্ল্যাটফর্ম থেকে ছাড়বে? এক নজরে:
শিয়ালদহ মেইন শাখা (প্ল্যাটফর্ম ১-৫): গেদে, শান্তিপুর, কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, নৈহাটি, কল্যাণী সীমান্ত এবং ব্যারাকপুরগামী লোকাল ট্রেনগুলি এই প্ল্যাটফর্মগুলি থেকে ছাড়বে। এটি মূলত উত্তর-পূর্বগামী রুট।
শিয়ালদহ মেইন শাখা (প্ল্যাটফর্ম ৫-৮): ডানকুনি এবং বারুইপুরগামী ট্রেনগুলি এই অংশ থেকে পরিচালিত হবে। যদিও বারুইপুর দক্ষিণ কলকাতার দিকে, এটি এখনও মেইন লাইনের অন্তর্ভুক্ত।
শিয়ালদহ মেইন শাখা (প্ল্যাটফর্ম ৬-১০): বনগাঁ, হাবড়া, ঠাকুরনগর, হাসনাবাদ, দমদম, মধ্যমগ্রামগামী ট্রেনগুলির জন্য এই প্ল্যাটফর্মগুলি বরাদ্দ করা হয়েছে। এটি মূলত উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন স্টেশনকে সংযুক্ত করে।
শিয়ালদহ মেইন শাখা (প্ল্যাটফর্ম ৯, ১১ ও ১৪): দূরপাল্লার ট্রেন, যেমন উত্তরবঙ্গ, বিহার বা ঝাড়খণ্ডের দিকে চলা এক্সপ্রেস ট্রেনগুলি এই তিনটি প্ল্যাটফর্ম থেকে ছাড়বে।
শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা (প্ল্যাটফর্ম ১৫-২১): দক্ষিণ ২৪ পরগনার দিকে যাওয়া ট্রেনগুলি—যেমন ডায়মন্ড হারবার, লক্ষ্মীকান্তপুর, নামখানা, সোনারপুর, ক্যানিং ও বারুইপুরগামী ট্রেন—এই অংশ থেকে পরিচালিত হবে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করতে প্ল্যাটফর্মগুলিতে অত্যাধুনিক ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড, দিক নির্দেশক সাইনেজ এবং অ্যানাউন্সমেন্টের সংখ্যা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি, মোবাইল অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটেও এই সমস্ত তথ্য নিয়মিত আপডেট করা হবে, যাতে যাত্রীরা সহজেই তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পান।
এই সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন বহু নিত্যযাত্রী। একজন অফিসযাত্রী বলেন, “এতদিন ধরে আমরা হুড়োহুড়ি করতাম, প্ল্যাটফর্মে এসেও বুঝতাম না কোন ট্রেন কোথা থেকে ছাড়বে। এখন যদি নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মেই নির্দিষ্ট রুটের ট্রেন চলে, তাহলে অনেকটাই সময় বাঁচবে এবং স্টেশনে বিশৃঙ্খলা কমবে।”
এই নতুন ব্যবস্থা কবে থেকে সম্পূর্ণরূপে চালু হয় এবং বাস্তবে কতটা কার্যকরী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতত শিয়ালদহ স্টেশনে যাত্রী পরিষেবা আরও উন্নত ও সুশৃঙ্খল করার এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন সকলে।





