আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব পালন করে আয়রন। কিন্তু বর্তমানের অনিয়মিত জীবনযাপন আর ডায়েটের কারণে অজান্তেই আমরা আয়রনের ঘাটতির শিকার হই। চিকিৎসকদের মতে, আয়রনের অভাব বা অ্যানিমিয়া (রক্তাল্পতা) এমন একটি সমস্যা যা শুরুতে বোঝা না গেলেও পরে শরীরকে ভেতর থেকে ফোকলা করে দেয়। আপনার শরীরও কি বিশেষ কিছু সংকেত দিচ্ছে? জেনে নিন কোন লক্ষণগুলি দেখে সতর্ক হওয়া জরুরি।
শরীরে আয়রনের অভাবের প্রধান লক্ষণসমূহ:
১. মাত্রাতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা
যথেষ্ট বিশ্রাম নেওয়ার পরেও কি আপনার শরীর সারাক্ষণ অবসন্ন লাগে? আয়রনের অভাবে রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যায়, ফলে কোষে অক্সিজেন কম পৌঁছায়। এতেই তৈরি হয় চরম ক্লান্তি এবং কাজ করার শক্তি হারিয়ে ফেলা।
২. ফ্যাকাশে ত্বক ও চোখের কোণ
আয়নার সামনে দাঁড়ালে কি নিজেকে ফ্যাকাসে দেখাচ্ছে? আয়রনের অভাব হলে রক্তের লাল আভা কমে যায়। এর ফলে ত্বক, মাড়ি এবং চোখের ভেতরের অংশ ফ্যাকাসে হয়ে পড়ে। এটি রক্তাল্পতার অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ।
৩. শ্বাসকষ্ট এবং বুক ধড়ফড় করা
সিঁড়ি দিয়ে সামান্য ওঠা-নামা করলে বা অল্প হাঁটলেই কি হাঁপিয়ে উঠছেন? হৃৎপিণ্ড যখন সারা শরীরে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে হিমশিম খায়, তখন শ্বাসকষ্টের সৃষ্টি হয় এবং হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
৪. নখ ও চুলের ভঙ্গুরতা
আয়রণের অভাবে নখ চামচের মতো বেঁকে যেতে পারে (Spoon Nails) অথবা নখ খুব সহজে ভেঙে যায়। এছাড়া অতিরিক্ত চুল পড়াও কিন্তু শরীরে পুষ্টির অভাবের একটি বড় সংকেত।
৫. অদ্ভুত জিনিসের প্রতি আসক্তি (Pica)
এটি একটি বিচিত্র লক্ষণ। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে অনেকেরই বরফ, মাটি, চুন বা কাঁচা চাল খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগে। আপনার ক্ষেত্রে এমনটা হলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
আয়রনের ঘাটতি মেটাতে কী খাবেন?
পাতে রাখুন পালং শাক, কচু শাক, ছোলা, ডালিম, লাল মাংস (পরিমাণমতো) এবং ডিম। ভিটামিন-সি জাতীয় খাবার (যেমন লেবু) বেশি করে খান, কারণ এটি শরীরকে আয়রন শোষণ করতে সাহায্য করে।





