বিজেপি প্রার্থীদের হাতে রুই-ইলিশ! ভোটের মুখে গেরুয়া শিবিরের ‘মাছে-ভাতে’ কৌশল নিয়ে হাসির রোল রাজনৈতিক মহলে

বাংলার ভোট মানেই ইস্যুর ছড়াছড়ি। কিন্তু এবারের লড়াইয়ে সরাসরি ঢুকে পড়ল বাঙালির প্রাণের ‘মাছ’। বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরে তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে গিয়ে মাছ নিয়ে বিজেপিকে যে ভাষায় আক্রমণ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাতে কার্যত হাসির রোল উঠেছে বঙ্গ রাজনীতিতে। বিজেপি নেতাদের সাম্প্রতিক ‘মৎস্যপ্রেম’ দেখে অভিষেক কটাক্ষ করে বললেন, “ভোটের পরে ওদের দিয়ে মাছ কাটাব।”

কেন হঠাৎ মাছ নিয়ে বিতর্ক? গত কয়েকদিন ধরে দেখা যাচ্ছে, বিজেপির একাধিক প্রার্থী প্রচারে বেরিয়ে মাছের বাজারে যাচ্ছেন, মাছ হাতে ছবি তুলছেন, এমনকি নিজেরা মাছ কিনছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ ভাবমূর্তি তৈরি করে মানুষের আবেগের খুব কাছে পৌঁছাতে চাইছে গেরুয়া শিবির। আর এই কৌশলকেই বিঁধলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড।

বিদ্যাসাগর বনাম ইলিশ-রুই: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন পুরনো স্মৃতি উস্কে দিয়ে বলেন, “২০২১ সালে যাঁরা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিল, তাঁরাই এখন রুই-কাতলা-ইলিশ নিয়ে রাস্তায় ঘুরছে।” তাঁর দাবি, বাংলার সংস্কৃতিকে যারা বারবার আক্রমণ করেছে, ভোটের মুখে তাদের এই মাছ প্রেম আসলে ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়।

মোদীর বক্তব্য ও পাল্টা চাল: বিতর্কের শুরুটা হয়েছিল হলদিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর এক ভাষণ থেকে, যেখানে তিনি রাজ্যের মৎস্যনীতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। তার জবাবে তৃণমূল বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, বিজেপি শাসিত অনেক রাজ্যে মাছ-মাংস বিক্রির ওপর নানা বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে বাংলায় এসে বিজেপির এই ‘মাছ-ভক্তি’ স্রেফ রাজনৈতিক নাটক বলে দাবি জোড়াফুল শিবিরের।

অভিষেকের এই আক্রমণাত্মক ঢং কি বিষ্ণুপুরের ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলবে? ভোটের লড়াইতে ‘মাছ’ কি শেষমেশ তুরুপের তাস হয়ে উঠবে? উত্তর মিলবে ভোটবাক্সেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy