শিবের কৃপায় বিপদ মুক্তি! শ্রাবণের ৫টি সোমবার কীভাবে কাটাবেন? রইল বিস্তারিত গাইড

হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বছরের অন্যতম পবিত্র মাস হলো শ্রাবণ। দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনার জন্য এই মাসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বাস করা হয়, ভক্তিভরে এই মাসে মহাদেবকে ডাকলে তিনি তুষ্ট হন এবং ভক্তের সমস্ত মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন। চলতি বছর ১৮ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে শ্রাবণ মাস এবং এটি চলবে ১৮ অগাস্ট পর্যন্ত।
শ্রাবণের পাঁচটি সোমবারের তালিকা: এই বছর শ্রাবণ মাসে মোট পাঁচটি সোমবার পড়েছে, যা শিব ভক্তদের কাছে অত্যন্ত মাহেন্দ্রক্ষণ:
২০ জুলাই (৩ শ্রাবণ): প্রথম সোমবার
২৭ জুলাই (১০ শ্রাবণ): দ্বিতীয় সোমবার
৩ অগাস্ট (১৭ শ্রাবণ): তৃতীয় সোমবার
১০ অগাস্ট (২৪ শ্রাবণ): চতুর্থ সোমবার
১৭ অগাস্ট (৩১ শ্রাবণ): পঞ্চম সোমবার
কেন শ্রাবণ মাস এত গুরুত্বপূর্ণ? পুরাণ মতে, শ্রাবণ মাসেই সমুদ্র মন্থন সম্পন্ন হয়েছিল। সেই সময় হলাহল বিষ পান করে মহাদেব সৃষ্টির রক্ষা করেছিলেন। বিষের তেজে তাঁর শরীর নীল হয়ে যাওয়ার কারণেই তিনি ‘নীলকণ্ঠ’ নামে পরিচিত। দেবী পার্বতী তাঁর সেবা করে শিবের সেই জ্বালা প্রশমন করেছিলেন। এই ত্যাগের মাসটি তাই সৃষ্টির রক্ষাকর্তা মহাদেবের আরাধনার জন্য শ্রেষ্ঠ সময় বলে গণ্য হয়।
পুজোর নিয়ম ও বিধান: শিবের কৃপা পেতে ও অশুভ শক্তি দূর করতে এই মাসে বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি:
উপবাস ও নিরামিষ: প্রতি সোমবার উপবাস করে শিবের পুজো করা সবচেয়ে শুভ। উপবাস সম্ভব না হলে এদিন সম্পূর্ণ নিরামিষ আহার গ্রহণ করা বিধেয়।
শিবস্তোত্র ও মন্ত্র: সোমবার স্নান সেরে শিবস্তোত্র পাঠ এবং মহাদেবের মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করা অত্যন্ত ফলদায়ী।
ফুল ও বেলপাতা: মহাদেব বেলপাতাতে সর্বাধিক তুষ্ট হন। এছাড়া ধুতুরা, আকন্দ, অপরাজিতা ও কলকে ফুল তাঁর প্রিয়।
শুভ কাজ: ‘শ্রাবণ’ শব্দটি ‘শ্রবণ’ থেকে উদ্ভূত। তাই এই মাসে শুভ কথা শোনা ও চর্চা করা উচিত।
বিশেষ অনুসঙ্গ: যারা রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে চান, তাদের জন্য শ্রাবণ মাসই শ্রেষ্ঠ সময়। এছাড়া বাড়িতে স্ফটিক শিবলিঙ্গ স্থাপন ও পুজো করাও এই মাসে অত্যন্ত শুভ ফলদায়ী।
সামাজিক তাৎপর্য: শুধুমাত্র বিবাহিত মহিলারা স্বামীর মঙ্গল কামনায় নয়, অবিবাহিত নারী ও পুরুষরাও নিষ্ঠাভরে শ্রাবণের ব্রত পালন করেন। এই আরাধনা সুখ-সমৃদ্ধি বজায় রাখার পাশাপাশি দাম্পত্য জীবনকে আরও মধুর করে তোলে বলে ভক্তদের বিশ্বাস।