ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে কলকাতার রাজপথে বাম-সিজেপি যৌথ গর্জন, পুলিশের অনুমতি না মিললেও ধুন্ধুমার!

দেশজুড়ে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলা আন্দোলনের তীব্র আঁচ এসে পড়ল কলকাতার বুকে। শুক্রবার এসএফআই (SFI)-এর ডাকে এবং ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কলকাতার রাজপথে এক বিরাট প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশের তরফ থেকে নির্দিষ্ট বিক্ষোভের অনুমতি না মিললেও, এসএফআই-এর পতাকাতলে শিয়ালদা থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এই বিশাল মিছিলে পা মেলান বামেদের ৮টি গণসংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা। ‘রাত জাগো, দেশ জাগো’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই মিছিলে ব্যাপক জনস্রোত দেখা যায়, যার জেরে বন্ধ করে দেওয়া হয় গুরুত্বপূর্ণ শিয়ালদা ফ্লাইওভার

দিল্লির টেবিল টক বনাম কলকাতার রাজপথ

দিল্লিতে যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপি (CJP) প্রতিনিধিদের ম্যারাথন বৈঠক চলছে—যেখানে কেন্দ্র শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে এবং সিজেপি সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে—ঠিক তখনই কলকাতার রাজপথ উত্তপ্ত করে তুলল ছাত্র-যুব সমাজ।

সৃজনের হুংকার: ‘আন্দোলন থামছে না’

বৃহস্পতিবার রাতেই ২৬ দিন পর অনশন ভেঙেছেন প্রখ্যাত সমাজকর্মী ও প্রকৌশলী সোনম ওয়াংচুক। তবে সোনমের অনশন ভাঙাকেই এই লড়াইয়ের শেষ বা সমাপ্তি হিসেবে দেখতে নারাজ এসএফআই। একটি ভিডিও বার্তায় এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন:

“সোনম ওয়াংচুক অনশন ভেঙেছেন, আন্দোলন নয়। তাঁর অসমাপ্ত লড়াই এবার দেশের ছাত্র-যুবদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ২৬ দিন ধরে নিজের শরীরের কথা না-ভেবে ছাত্রদের দাবিতে লড়াই করেছেন সোনম ওয়াংচুক। সেই লড়াইকে আমরা স্যালুট জানাই। কিন্তু এখন তাঁর কাঁধ থেকে সেই দায়িত্ব দেশের তরুণ প্রজন্মের কাঁধে এসে পড়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার গলদ যতদিন না-দূর হচ্ছে, ততদিন আন্দোলন চলবে।”

মিছিলে তৃণমূলের ‘নৈতিক সমর্থন’

এদিকে, ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসকদলের অবস্থান নিয়েও নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। কলকাতার এই এসএফআই মিছিলকে নৈতিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে বিধায়ক কুণাল ঘোষ এক ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট করে দেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের প্রতি নিজেদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। কলকাতায় সিজেপি বা ছাত্ররা এই দাবিতে যেকোনো কর্মসূচি করলে তৃণমূলের তরফ থেকে তাতে পূর্ণ নৈতিক সমর্থন থাকবে।