শিক্ষক সংগঠন ভেঙে দিল তৃণমূল, ব্রাত্য বসুর জন্মদিনে বড় রদবদল ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা!

রাজ্যে যখন দুর্গাপুজোর আমেজ শুরু, ঠিক তখনই নিজেদের শিক্ষক সংগঠন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার দলের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলে ঘোষণা করা হয়েছে যে, দলের অধীনস্থ সমস্ত শিক্ষক এবং অধ্যাপক সংগঠন ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বার্তা দেওয়া হয়েছে, পুজো মিটলেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর জন্মদিনেই এই ঘোষণা আসায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সংগঠন ভাঙার পেছনে কী কারণ?
দলের এই পদক্ষেপের পেছনে একাধিক অসন্তোষ ও অস্থিরতা কাজ করছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা:

টেট নিয়ে সতর্কতা: সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, টেট উত্তীর্ণ না-হওয়া সত্ত্বেও প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত যাঁরা শিক্ষক হিসেবে কর্মরত, তাঁদের আগামী দু’বছরের মধ্যে টেট পরীক্ষায় পাশ করতেই হবে। অভিযোগ, শিক্ষক সংগঠন এই বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে সতর্ক করেনি।

চাঁদা তোলা: অভিযোগ উঠেছে, সদস্যপদ বাবদ বছরে ২০০ টাকা করে চাঁদা তোলা হচ্ছিল, যা দলের অন্দরে অনেক সদস্যের কাছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব: অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুপা’র ক্ষেত্রে নেতৃত্বের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ছিল প্রকট। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে সংগঠনের সহসভাপতি মণিশঙ্কর মণ্ডল সাসপেন্ড হওয়ার পর তিনি প্রকাশ্যে শিক্ষামন্ত্রী তথা সংগঠনের সভাপতি ব্রাত্য বসুর বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন।

অভিষেকের ভূমিকা নিয়ে জল্পনা
সংগঠন ভেঙে দেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সাসপেন্ড হওয়া নেতা মণিশঙ্কর মণ্ডল বলেন, “সেদিনও বলেছিলাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ, অভিষেক সেনা জিন্দাবাদ। আজও তাই বলছি।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই এই সিদ্ধান্তে মূল ভূমিকা রেখেছেন।

যদিও দলের ভেতরে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি এবং অনেকেই বলছেন, এই সিদ্ধান্তের সঠিক কারণ স্পষ্ট নয়। এক শিক্ষক নেতা কটাক্ষ করে বলেছেন, “ঝড়ে বক মরলে অনেক ফকিরই কেরামতির দাবি করে। সবই জল্পনা।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনে এই একের পর এক রদবদল স্পষ্ট অস্থিরতার ছবি তুলে ধরছে এবং শিক্ষক সমাজের প্রতি ভুল বার্তা যাচ্ছে। পুজো মিটে নতুন কমিটি ঘোষণার পর এই সঙ্কট কতটা কাটবে, এখন সেদিকেই নজর রাজ্য রাজনীতির।